kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

'ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে আন্তধর্মীয় শিক্ষায় জোর দিতে হবে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ১৭:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করতে আন্তধর্মীয় শিক্ষায় জোর দিতে হবে'

মহান স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গঠিত হয়েছিল। দেশের স্বাধীনতাবিরোধী সেই কুচক্রী মহল সাম্প্রদায়িকতার প্রথম বীজ বপন করেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের বেশি সময় এ দেশে কুচক্রী মহল তাদের বিকৃত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে। তবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কাছে কুচক্রী মহল কোনোভাবেই সফল হতে পারবে না। ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রায়িকতা দূর করতে যুবসমাজের মধ্যে আন্তধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সামশুল হক টুকু এ আহ্বান জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার উন্নয়ন সংগঠন 'দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে'র অর্থায়নে এবং ফিন চার্চ এইড ও 'দ্য নেটওয়ার্ক ফর রিলিজিয়াস অ্যান্ড ট্র্যাডিশনাল পিস মেকার্স, ফিনল্যান্ডে'র কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত স্মারক বক্তৃতা 'প্রচার এবং সামাজিক সংহতি' শীর্ষক অনলাইন ইয়ুথ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু এ দেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা লিখেছিলেন। সব নাগরিকের সম-অধিকারের কথাও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখতেই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের তরুণসমাজকে উজ্জীবিত করে সচেতন ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সে জন্য মাদকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ধশতাধিক যুব প্রতিনিধির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই অনলাইন ইয়ুথ সম্মেলনে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করে 'ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব স্যোশ্যাল সায়েন্স'-এর জাহাঙ্গীর হোসেন শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারিবারিক ও সামাজিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

প্যানেল আলোচক ব্যাপ্টিস্ট মিশনের বিশিষ্ট ধর্মযাজক নৃপেন বৈদ্য আন্তধর্মীয় শিক্ষাকে জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের নিজ নিজ ধর্মীয় বা নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে সপ্তাহে কিংবা মাসে অন্তত এক দিন সব ধর্মাবলম্বী শিশুদের একসঙ্গে আন্তধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। এর ফলে সবাই সব ধর্মের মূল বাণী যেমন জানতে পারবে, একই সঙ্গে একে অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গড়ে উঠবে।

সামাজিক কার্যক্রমে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করা ও আন্তধর্মীয় আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্যানেল আলোচক সাংবাদিক নিখিল ভদ্র বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অপপ্রচার, শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে এমন বক্তব্য চিহ্নিত করে দ্রুততার সঙ্গে যেমন সরিয়ে ফেলতে হবে, অন্যদিকে নিরাপদ ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বিষয়ে যুব ও তরুণদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠুধারার সংস্কৃতি চর্চার প্রসার এবং এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়নকর্মী মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন পার্লামেন্টনিউজে’র সাকিলা পারভীন, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের রাফিউল চৌধুরী, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট আনন্দ রাজবংশী এবং পিএইচডি গবেষক (অপরাধবিজ্ঞান) নাজনীন শবনম এবং তরুণ প্রতিনিধি ঢাকা থেকে ফরিদুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে মালেক সরকার, বরিশাল থেকে এথিনা বল্লবি ও খুলনা থেকে রিয়াদ হোসেন।



সাতদিনের সেরা