kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র

রাসেলের জন্মদিন রাঙাল শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০৪:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাসেলের জন্মদিন রাঙাল শিশুরা

গতকাল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র আয়োজন করে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। প্রথম বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর।

কেউ আঁকছে মায়ের কোলে চড়ে কারাবন্দি বাবার সঙ্গে দেখা করতে কারা ফটকে শেখ রাসেল। আবার কেউ বা আঁকছে ফড়িংয়ের পেছনে ছোটা রাসেল। কারো ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে গাঢ় রঙের ছোঁয়ায় শেখ রাসেলের মুখ। মানচিত্র হাতে ছুটে চলা শিশু রাসেল উঠে এসেছে কারো ক্যানভাসে। কেউ বা রাসেলকে এঁকেছে পায়রার ডানায়। শিশু রাসেল তার বাবাকে খুব কম সময় কাছে পেয়েছে। তার পরও শিশুদের ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে পরিবার ও বাবার সঙ্গে রাসেলের জন্মদিন পালনের আয়োজন।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের প্রাঙ্গণে গতকাল সোমবার সকালটা অন্য রকম ছিল। শিশুদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে ওই প্রাঙ্গণ। রং-তুলি আর ক্যানভাস হাতে একে একে আসতে থাকে শিশুরা। গতকাল ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র আয়োজন করে ‘শহীদ শেখ রাসেল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা-২০২১’।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ঈরিশা মারজান বলেন, ‘আমি শেখ রাসেলকে আঁকতে গিয়ে অনেক রং ব্যবহার করেছি। এটা করেছি ছবিটা আরো রঙিন করতে। কারণ শেখ রাসেলও আমার মতো রং ভালোবাসত। রাজধানীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজ জামান বলেন, ‘শেখ রাসেল আমার চোখে হিরো। তাকে আঁকতে পেরে আমি খুশি।’

প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির প্রায় দুই শ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘শেখ রাসেলকে নিয়ে যা আঁকতে ভালো লাগে’। দেড় ঘণ্টার এই প্রতিযোগিতায় শিশুরা রং-তুলিতে নিজেদের মতো করে শেখ রাসেলের জীবনের নানা মুহূর্ত ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে।

গতকাল সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের প্রাঙ্গণে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে রাজধানীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিনহাজ জামান। দ্বিতীয় হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিথিলা ভৌমিক এবং তৃতীয় হয়েছে নারায়ণগঞ্জের নারায়ণ আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রেয়সী সাহা।

প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। পুরস্কার বিতরণের আগে শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে অতিথি ও শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের পরিচালক সালেহ জামান সেলিম, ডিরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম প্রমুখ।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারক ছিলেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ইমদাদুল হক মিলন, সহকারী বিচারক ছিলেন শহীদ আনোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষক শেখ ফারহানা টুম্পা এবং তরুণ শিল্পী ও কালের কণ্ঠের কার্টুনিস্ট প্রসূন হালদার।

প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পেয়েছেন এক লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা ও তৃতীয় পুরস্কার ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিজয়ীদের ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট, স্কুলব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হয়। ২৭ জন প্রতিযোগীকে শুভেচ্ছা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ। আর অংশগ্রহণকারী সব প্রতিযোগীকে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা উপকরণ, সার্টিফিকেট ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ডিরেক্টর ইনচার্জ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু বলেন, ‘শহীদ শেখ রাসেল নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে এক ভালোবাসার নাম। শেখ রাসেলের এই ছোট্ট জীবন আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয়।’

এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা নিয়ে অভিভাবকরা জানান, করোনার কারণে শিশুরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল। সব ধরনের আয়োজন বন্ধ থাকায় কোথাও অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশুরা খুব খুশি। প্রতিযোগিতাটি আয়োজনের জন্য শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সবাইকে ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা