kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

আসামি ১৩ হাজার গ্রেপ্তার ২৬৮

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আসামি ১৩ হাজার গ্রেপ্তার ২৬৮

শারদীয় দুর্গাপূজা সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হলেও কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তত ১৬টি জেলায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সরকারি হিসাবে, মন্দির ও মণ্ডপে হামলাকারীরা ৩৫টি প্রতিমা ভাঙচুর করে। এসব ঘটনায় ৩৯টি মামলা হয়েছে। আসামি প্রায় ১৩ হাজার। এরই মধ্যে ২৬৮ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রাজধানী ঢাকায় গত শুক্রবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রমনা, চকবাজার ও পল্টন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে। আর অজ্ঞাতপরিচয়সহ আসামি করা হয়েছে চার সহস্রাধিক ব্যক্তিকে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ছাড়াও কুমিল্লা, চাঁদপুর, লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, পাবনা, লক্ষ্মীপুর, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার, লালমনিরহাট, নোয়াখালী, মাগুরা, সিলেট, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজারে হামলা ও বিক্ষোভের  ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কুমিল্লার ঘটনার পরপরই সারা দেশে ৩৫টি মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনা সামাল দিতে গিয়ে ২৫ জন পুলিশ ও সাতজন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৪৫ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে।

রাজধানীর মামলার চিত্র : শুক্রবার পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এবং চকবাজার এলাকার আরেকটি ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। তিনটি মামলায় চার হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১২টার পর পল্টন, রমনা ও চকবাজার থানায় মামলা তিনটি করে পুলিশ।

চকবাজার থানা এলাকার নূরফাতেহ লেনে শুক্রবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চকবাজার থানায় পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। এ মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ৩৫-৪০ জনকে আসামি করে। শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দয়া দেবনাথ, ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ মহসীন, হযরত আলী, জুবায়ের ও আব্দুর রহমান।

পল্টন থানার মামলায় খেলাফত আন্দোলনের একাংশের আমির জাফরুল্লাহ খানসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছয়জনকে। এ ছাড়া দুই হাজার ৫০০ জনকে করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি।

রমনা থানার মামলায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে এক হাজার ৫০০ জনকে।

রাজধানীর তিন মামলায় নাম উল্লেখ থাকা ২১ জনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে জাফরুল্লাহ খানও রয়েছেন। পল্টন থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সারা দেশে মামলা : কুমিল্লার ঘটনায় সেখানে পাঁচটি মামলা হয়েছে। আসামি পাঁচ শতাধিক। গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪০ জন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুলিশের তিন মামলায় নামে-বেনামে আসামি প্রায় দুই হাজার। গ্রেপ্তার ১৫ জন। চট্টগ্রামের পাঁচ মামলায় আসামি দুই হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার ৮৫ জন।

নোয়াখালীতে দুটি মামলায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামি আড়াই শর বেশি। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ঘটনায় পাঁচ মামলায় আসামি সাত শতাধিক। গ্রেপ্তার দুইজন। কক্সবাজারের ঘটনায় পাঁচ মামলায় আসামি দুই হাজার তিন শর বেশি। গ্রেপ্তার ১০ জন। সিলেটের ঘটনায় এক মামলায় আসামি আড়াই শর বেশি। গ্রেপ্তার ১২ জন। গাজীপুরে তিন মামলায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও রামগঞ্জে দুটি মামলায় ২৯০ জন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি। গ্রেপ্তার পাঁচজন। কুড়িগ্রামের উলিপুরে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে আটক করে ১৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাগেরহাটের শরণখোলায় বিক্ষোভ করার কারণে চারজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনায় এক মামলায় আসামি ১৫০ জন। গ্রেপ্তার ১০ জন।

পাবনার ঘটনায় দুই মামলায় গ্রেপ্তার চারজন। আসামি অজ্ঞাতপরিচয় শতাধিক। লালমনিরহাটের এক মামলায় আসামি ২৫ জন। গ্রেপ্তার একজন। কিশোরগঞ্জে এক মামলায় ৩৫ আসামি। চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



সাতদিনের সেরা