kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির

এত লাভ কেন, প্রশ্ন ব্যবসায়ী নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০২:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এত লাভ কেন, প্রশ্ন ব্যবসায়ী নেতার

সুযোগের অপব্যবহার না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান  জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এত লাভ করতে হবে কেন? আমরা ব্যবসা করব, কিন্তু এমন কিছু করব না, যাতে পুরো ব্যবসায়ীসমাজের ওপর দোষ বা বদনাম চলে আসে।’

গতকাল রবিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মজুদ, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ক মতবিনিময়সভায় জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন।

রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে এই মতবিনিময়সভা হয়। নিত্যপণ্যের আমদানিকারক, আড়তদার ও বিভিন্ন খুচরা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা মতবিনিময়ে অংশ নেন।

কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যেদিন পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হলো, সেদিন বিকেলেই প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০-১৫ টাকা কমে গেল। শুল্কমুক্ত সুবিধায় পেঁয়াজ আমদানির আগেই দাম কমানোর মানে হলো আগেও কমানোর সুযোগ ছিল।

জসিম উদ্দিন বলেন, বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত দু-একজন ব্যবসায়ীর কারণে পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। তাই ব্যবসায়ীদের জবাবদিহির মধ্যে আসতে হবে।

বাজার পরিস্থিতির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, শ্যামবাজারে এক আড়ত থেকে আরেক আড়তে ভিন্ন ভিন্ন দামে পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়। আবার খুচরা বাজারেও এক বাজার থেকে আরেক বাজারে দামের পার্থক্য কেজিতে ১০-১৫ টাকা। এই অবস্থা অস্বাভাবিক। এর জন্য অল্প কয়েকজন ব্যবসায়ী দায়ী। ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান  জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ব্যবসা করব, কিন্তু এমন কিছু করব না, যাতে পুরো ব্যবসায়ীসমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

জসিম উদ্দিন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে মানুষের কষ্ট হয়; কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মাছ, মাংস, মুরগি, পেঁয়াজ, চালের মতো পণ্যের দাম অসম্ভব রকম বেড়ে গেছে। নিত্যপণ্য একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হওয়া নিয়েও ক্ষোভ জানান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। তিনি বলেন, রংপুরে একটি পণ্য পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। ঢাকার কারওয়ান বাজারে সেটির দাম বেড়ে হয় ১০ টাকা। গুলশানে গেলে ২০-২৫ টাকা হয়ে যায়।

জসিম উদ্দিন আরো বলেন, এক কেজি চাল বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। অরাজকতা চলছে—এটা ঠিক নয়। আগে কেজিতে ৫০ পয়সা বা এক টাকা লাভ করতেন ব্যবসায়ীরা। এখন কেজিতে পাঁচ-ছয় টাকাও মুনাফা করছেন কেউ কেউ।

এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, শ্যামবাজারে আজ (গতকাল) দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সেই পেঁয়াজ গুলশানের বাজারে ৬০ টাকা, নিউ মার্কেটে ৬৫ ও শান্তিনগর বাজারে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কেন এমন হবে?

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছা আছে উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙতে এফবিসিসিআই কাজ করবে।

পেঁয়াজের আড়তদার ও আমদানিকারকরা দাম বাড়া-কমার পেছনে নানা যুক্তি দেন। তাঁরা বলেন, পেঁয়াজ পরিবহনে চাঁদাবাজি, ভারতে বৃষ্টি ও সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কারণে পণ্যটির দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়লে ব্যবসায়ীদের নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হয়। তাঁরা মনে করেন, ঢালাওভাবে মন্তব্য না করে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে, তারা ওই সব ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।

এ ব্যাপারে পরবর্তী সময় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ব্যবসায়ীদের আরো কোনো সমস্যা থাকলে তা এফবিসিসিআইকে জানানোর আহ্বান  জানান। তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে। কমিটিগুলো ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করবে।

মতবিনিময়সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিনুল হক শামীম, মো. হাবিব উল্লাহ ডন, পরিচালক মো. রেজাউল করিম রেজনুসহ অন্যান্য পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।



সাতদিনের সেরা