kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ১৪ দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ১৪ দলের

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোট। তারা সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

রবিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ১৪ দলের এক ভার্চুয়াল সভায় জোটটির শীর্ষ নেতারা এ আহ্বান জানান। দীর্ঘদিন পরে অনুষ্ঠিত এ সভায় পূর্ব নির্ধারিত এজেন্ডা না থাকায় উপস্থিত হননি জোটটির শরিক দুই দল।

সভায় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দৃঢ়তার সঙ্গে আমরা সামনের দিকে আগ্রসর হচ্ছি। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সহায়ক শক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এই উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবেলা করব।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনা আমরা পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। সেই ৬০-এর দশক থেকে এসব হয়ে আসছে। ইসলাম গেল গেল বলে তখন থেকে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে এই অপশক্তি। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বেই তা সম্ভব হয়েছে। আমি চাই ১৪ দল ইস্পাত কঠিন হয়ে সব মোকাবেলা করবে এবং তার পথ দেখাবেন শেখ হাসিনা।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লা সব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। সাম্প্রদায়িকতা এত বেশি বিস্তার লাভ করছে যে, তা সব দলেই আছে। এদের সম্পর্কে দলমত নির্বেশেষে নির্মোহ বিশ্লেষণ করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, কুমিল্লার হামলার পেছনে ৭১-এর পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামাতিরাই। তারা দাঙ্গার জন্য উস্কে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। সুতরাং এটা আমি জঙ্গি হামলা হিসেবেই দেখব। এটা পরিকল্পিত ও রাজনৈতিক হামলা। সরকারকে বিপদে ফেলতেই এই হামলা করা হয়েছে।

সভায় বক্তব্য রাখেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

১৪ দলের সূত্রগুলো জানায়, গতকালের সভায় বাংলাদেশ জাসদ ও ন্যাপের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। পূর্বে থেকে এজেন্ডা নির্ধারণ না থাকায় তারা উপস্থিত থাকেননি। সম্প্রতি নানা ইস্যুতে জোটের অভ্যন্তরে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব দেখা দিয়েছে। গতকালের সভায় এর প্রতিফলনও দেখা গেছে। 

সূত্র মতে, সভায় জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা চেয়েছেন সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে ১৪ দলের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সম্মতি না থাকায় সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতারা এ বিষয়ে পরে জানাবেন বলে জোট শরিকদের আশ্বস্ত করেছেন। সভায় নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নেও গুরুত্ব দেন জোটের একাধিক শরিক।



সাতদিনের সেরা