kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘বেঁচে থাকলে শেখ রাসেল হতো এক জনদরদী নেতা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০২১ ২০:১৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘বেঁচে থাকলে শেখ রাসেল হতো এক জনদরদী নেতা’

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, ‘শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আজ একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, জনদরদী এবং মানবিক ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হতেন। কারণ রাসেল তো বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতারই সন্তান। তাদের লালনপালনে বেড়ে উঠলে সেরুপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। শেখ রাসেল আজ আবর্তিত হয়েছেন সকল শিশুদের ওপর নির্যাতন এবং নিষ্ঠুরতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে। শুধু একজন নয়, রাসেল পৃথিবীর হাজার হাজার শিশুর প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।’
রবিবার সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আশ্রয়ণ কর্মসূচির গৃহদান ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, ’রাসেল সবসময় খেলাধুলা পছন্দ করতো, নিজেও খেলতে পছন্দ করতো। যার কারণে অনেক সময়ে আমাদের জোর করে বাসা থেকে নিয়ে যেত খেলা দেখতে। বিশেষ করে শেখ কামালের নেতৃত্বে আবাহনীর যে খেলা হতো, এটার জন্য অনেকবার আমাদেরকে ওর সাথে যেতে হয়েছে। তার মধ্যে একটা সাহসী মনোভাব ছিল এবং খুব ট্যালেন্ট ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে সে অনেককিছু ধরতে পারতো। রাসেল বেঁচে থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতেন এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো ভালো হতো। বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ সেটা শেখ হাসিনার পাশাপাশি তারাও সেই দায়িত্ব পালন করতেন।”

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ”শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে তিনি আপনাদের মত একজন দৃপ্ত যুবক হতে পারতেন। তিনি আমাদের একজন নেতা হতে পারতেন। উন্নয়নের একজন অগ্রপথিক হতে পারতেন। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে চলছেন সেখানে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তাকে আমরা হারিয়েছি এবং তাকে আজীবন আমরা শিশুর মতই আমাদের চেতনায়, আমাদের স্বপ্নে, আমাদের চিন্তায় লালন করছি। আজকের দিনে যখন তাকে মনে করি আমাদের চোখ ভালোবাসায় ভিজে উঠে, একই সাথে  দুঃখে, বেদনায় আমাদের হৃদয় বিষাদগ্রস্ত হয়।”

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ”আমি দুইভাবে শেখ রাসেলকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। প্রথমত একটি অনুভূতি হিসেবে, দ্বিতীয়ত একটি প্রতীক হিসেবে। অনুভূতি হিসেবে যখন শেখ রাসেলকে ব্যাখ্যা করি তখন একটি চাপা ব্যাথা অনুভূত হয়, রাগ ও ঘৃণাও অনুভূত হয়। রাসেলের জন্য যেকোনো মানবিক মানুষের মায়া হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সেই মায়া থেকেই আসে এক ধরণের চাপা ব্যাথা ও ক্ষোভ। সেই মায়া থেকেই জন্ম নেয় খুনিদের জন্য ঘৃণা।”

তিনি আরো বলেন, ”পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু এমন নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড আর কোথাও ঘটেনি। মাত্র ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল ইতিহাসের জঘন্যতম রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল। খুনিরা সেদিন শেখ রাসেলকে মানসিক নির্যাতন করেছে। বাবা-মা, ভাই-ভাবীর লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ‘আয় তোকে মার কাছে নিয়ে যাই’ বলে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। শিশু রাসেলকে বুলেটে হত্যা করার আগে একাধিকবার হত্যা করা হয়েছে। শিশু রাসেল আতঙ্কিত হয়ে কেঁদে কেঁদে বলেছিল ‘আমি মায়ের কাছে যাবো’। পরবর্তীতে মায়ের রক্তাক্ত লাশ দেখে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিল ‘আমাকে হাসু আপার কাছে পাঠিয়ে দিন’।”

যুবলীগ চেয়ারম্যান  আরো বলেন, ”আমাদের সমাজে শিশু নির্যাতন বেড়েই চলেছে। এদিকে আমাদের সবারই দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। আমরা নারীর সম্মান এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বহুপথ পাড়ি দিয়েছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। একইসঙ্গে শিশুদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রেও তিনি জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন প্রকল্প একটি যুগান্তকারী কাজ। অনেত উন্নত রাষ্ট্রও তাদের গৃহহীন জনগণকে গৃহদান করতে পারেনি। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই অসাধ্য সাধন করেছেন। এ ছাড়া কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে এই প্রথম জনগণকে গৃহ হাস্তান্তর করা হচ্ছে যুবলীগের পক্ষ থেকে। এজন্য যুবলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীকে আমি সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানাই।”

সম্মানিত অতিথি ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ”রাসেল একটি পথ দেখিয়ে গেছে তরুণ প্রজন্মের কাছে, সেই পথটি যদি আমরা খুঁজে নিতে পারি তবে রাসেলের জন্ম সার্থক হবে। আমাদের চারপাশে বহু সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে, আমরা কেন তাদের রাসেলের প্রতিবিম্ব হিসেবে দেখি না? কেন ভাবি না যে এরাই রাসেল, এদের একটা সুন্দর জীবন দেব; এরা যেন আদর্শের পথে চালিত হয়। তিনি আরো বলেন, রাসেলের যে আত্মত্যাগ এটা যেন কেবল বাইরের আড়ম্বর না হয়ে থাকে।”

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, ”আমার চোখে সবসময়ই শেখ রাসেলের মুখ ভাসে। কী অপরাধ করেছিলো শিশুটি, কী অন্যায় ছিলো তার? আজ শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে এই মঞ্চে বসলে তাকে বাঘের মত দেখা যেতো। বাঘের সন্তান তো বাঘই হবে।”

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ”শেখ রাসেল একটি অনুভূতির নাম, একটি আদর্শের নাম, সকলের প্রিয় একটি নাম। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে, সেই বাংলাদেশ নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, আজকে শেখ রাসেলের জন্মদিনে এটাই হল যুবলীগের শপথ।”



সাতদিনের সেরা