kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

'সরকার লুটেরা-মুনাফাখোরদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'সরকার লুটেরা-মুনাফাখোরদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে'

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, গণবিরোধী সরকার আর অবৈধ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে একদিকে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদক কৃষক প্রতারিত হচ্ছে। অবৈধ ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট শুধু বাজার নয়, গণবিরোধী কর্তৃত্ববাদী সরকারকেও নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার লুটেরা, মুনাফাখোর, মজুদদারদের ‘পাহারাদার’ হিসেবে ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেটকে রক্ষা করে চলেছে। সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের কোনো দায় নেই।

আজ শনিবার শান্তিনগর কাঁচাবাজারের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। চাল, ডাল, তেল, আটা, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীন বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিপিবি আহূত দেশব্যাপী ‘বিক্ষোভ সপ্তাহে’র প্রথম দিনে সিপিবির পল্টন থানা কমিটি আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব সাহা। সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও জলি তালুকদার, শান্তিনগর শাখার সম্পাদক ফারহান হাবিব প্রমুখ।

সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের দর্শনের বদলে সরকার এখন মুক্তবাজার দর্শনের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করছে। সরকারের বাজার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়েই চলেছে। করোনার আঘাতে মানুষ যখন বিপর্যস্ত, তখন ‘দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া’র ধাক্কায় মানুষের জীবন চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যেই ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে সরকার আবারও ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজির দাম বাড়িয়েছে। দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তীব্র লড়াই গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে সমাবেশে সিপিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দূরে থাক, সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে হবে। সর্বত্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার জন্য বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গরিব মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা ও গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু, সারা দেশে টিসিবির কার্যক্রম জোরদার, ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু, ‘বাফার স্টক’ গড়ে তুলে এবং অবৈধ ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট ভেঙে লুটেরা-মজুদদার-মুনাফাখোর-মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। 

সমাবেশ শেষে ‘দাম কমাও, জান বাঁচাও’ স্লোগানে একটি বিক্ষোভ মিছিল শান্তিনগর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 



সাতদিনের সেরা