kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ-সমাবেশ

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি

দেশের বিভিন্ন স্থানের পূজামণ্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ভক্ত-দর্শনার্থী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় দ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

আজ শনিবার বিকেলে শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে তারা রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সন্ধ্যার আগে শাহবাগ চৌরাস্তায় মোড়ে কিছু সময়ের জন্য অবরোধ করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিলটি প্রেস ক্লাবের সমানে গিয়ে শেষ হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য পংকজ দেব নাথ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জি, অধ্যাপক তাপস মণ্ডল, অধ্যাপক চন্দ্র নাথ সরকার, শ্যামল রায়, রঞ্জন কর্মকার প্রমূখ।

সমাবেশে সংসদ সদস্য পংকজ দেব নাথ বলেন, চিহ্নিত চক্রটি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে। কাজেই এ দেশের মানুষকে অতীতে যেমন ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করা যায়নি, আগামীতেও যাবে না। যারা হামলা-ভাঙচুর ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখী হতে হবে।

উগ্রবাদী-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে অধ্যাপক নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টায় এ বর্বরচিত হামলা চালানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে এটা একেবারেই অনাকাঙ্খিত। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের এবং ইন্দনদাতাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াত ও হেফাজতকে পৃষ্টপোাষকতা বন্ধ করতে হবে। সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সারাদেশে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মিলন কান্তি দত্ত বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ধর্মীয় উৎসব করতে গিয়ে আমার ভায়েরা জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চাই। প্রতিশ্রুতি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এই দাবিতে দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে আসছি। বারবার দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা এভাবে নির্যাতিত হবে, তা কাম্য নয়। আমরা আশা করছি, সরকার এ বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিবে।



সাতদিনের সেরা