kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, ঢাকায় এফএও এর সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ১১:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ, ঢাকায় এফএও এর সংবাদ সম্মেলন

বিশ্বব্যাপী তিন বিলিয়নেরও বেশি মানুষ (বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ) স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পায় না। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে যে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়েছে তা ইতিমধ্যে ৯০০ মিলিয়ন ক্ষুধার্থ জনগণের সাথে নতুন করে ১৩২ মিলিয়ন বা তার বেশি মানুষকে যোগ করতে পারে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রতিবছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। বিশ্ব খাদ্যদিবস কেবল খাদ্য উদযাপনের জন্য নয়, বরং এটি সুবিধাবঞ্চিত জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর জন্যও পালন করা হয়। সারা পৃথিবীতে প্রচুর মানুষ এখনও ক্ষুধায় ভুগছে। ১৯৭৯ সালে শুরু করার পর থেকে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন করে আসছে।

এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো কভিড-১৯ মহামারিকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারি কৃষিখাদ্য ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করেছে। এর ফলে জীবিকা ও আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবস উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবনযাত্রার জন্য আরো দক্ষ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল এবং টেকসই কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে। আমাদের কৃষি-খাদ্যব্যবস্থা যেন সকলের জন্য পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী, পুষ্টিকর এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে। এই আশায় এ বছরের বিশ্ব খাদ্য দিবস সকল ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবে।

আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২১ উপলক্ষে গতকাল ১৫ অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জাতীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সাংবাদিকদের জন্য ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জাতীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম এবং টিভি মিডিয়ায় কর্মরত প্রায় ৫০ জন সংবাদকর্মী অংশগ্রহণ করেন।  

বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসন এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় এবার দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে আমাদের কর্ম আমাদের ভবিষ্যৎ, উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন। যার মূলকথা হলো হলো- যে খাদ্য আমরা বাছাই করি এবং যেভাবে আমরা তা গ্রহণ করি তা আমাদের এবং আমাদের পৃথিবী   ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশ্ব খাদ্য দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে বলার সময় তিনি  বিশেষ করে কভিড-১৯ অতিমারির সময় খাদ্য উৎপাদকদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলেন। যা অনেক ক্ষেত্রে সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থাকে ব্যহত করেছে। তিনি সকল খাদ্য নায়ক-কৃষক, মৎস্যজীবী, খাদ্য পরিবহনকারী মানুষ, বাজার বিক্রেতা প্রত্যেককেই যারা এই চ্যালেঞ্জিং মহামারির সময়েও আমাদের খাদ্য সরবরাহের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি তার আন্তরিক ধন্যবাদ এবং  প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আমাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য, পরিবেশের প্রতি যত্নবান হবার মধ্য দিয়ে টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। যাতে করে সবাই স্বাস্থকর এবং নিরাপদ খাবার পেতে পারে ।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাননীয় গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, জনাব মো মেসবাহুল ইসলাম। এছাড়াও তিনি সাংবাদিকদের সাথে একটি প্রাণবন্ত এক প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন। 



সাতদিনের সেরা