kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

পর পর দুই সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০৭:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর পর দুই সূচকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) তথা বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই সূচকে এবার বাংলাদেশ ৭৬তম স্থানে রয়েছে। তবে এই সূচকে গত বছরের চেয়ে বাংলাদেশ এক ধাপ পিছিয়েছে।

গত বছর ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫। এক ধাপ পেছানোর মানে হচ্ছে গত বছরের চেয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, তথা ক্ষুধা বেড়েছে।

জিএইচআইয়ের ওয়েবসাইটে গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক-২০২১’ প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে বিশ্বের ১১৬টি দেশের মধ্যে এবার ভারতের স্থান ১০১তম। গত বছর ছিল ৯৪। এবার পাকিস্তানের অবস্থান ৯২ আর মিয়ানমার আছে ৭১ নম্বরে।

জিএইচআইয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের স্কোর ১৯.১। নেপালের স্কোরও একই। গত বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২০.৪।

সূচকে মারাত্মক ক্ষুধাপীড়িত হিসেবে বিবেচিত ৩১টি দেশের মধ্যে ভারত রয়েছে। ভারত তার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে। ভারতের চেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে মাত্র ১৫টি দেশ। দেশগুলো হলো—পাপুয়া নিউ গিনি, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, তিমুর, হাইতি, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, কঙ্গোপ্রজাতন্ত্র, চাদ, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, ইয়েমেন ও সোমালিয়া।

পর পর দুইটি সূচকে বাংলাদেশের চেয়েও নিচে নেমে গেল ভারত। কয়েক দিন আগে আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের থেকে ১১ ডলার এগিয়ে যাবে। এরপর বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ সব প্রতিবেশী দেশের চেয়ে নিচে নেমে গেল ভারত। ভারতের নিচে রয়েছে মূলত আফ্রিকার হতদরিদ্র দেশগুলো, ক্ষুধা যাদের নিত্যসঙ্গী।

ক্ষুধাসূচকের রিপোর্ট আসার পর ভারতে নতুন করে হৈচৈ শুরু হয়েছে। ভারতের খাদ্যের অধিকার আন্দোলনের নেত্রী কবিতা শ্রীবাস্তব মনে করছেন, ‘বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। মাথাপিছু গড় আয়, অপুষ্টির হার কমিয়ে আনা, জিডিপির হার বৃদ্ধি, সব ক্ষেত্রেই তারা উন্নতি করছে। নারীশিক্ষায় বাংলাদেশ আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। স্কুল শিক্ষায় এবং কর্মসংস্থানেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে।’

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন, ‘গত কিছুদিন ধরে যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তাতে এ রকম একটা আশঙ্কা ছিল। যেভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে মূর্তি তৈরি হয়েছে, রামমন্দির তৈরি হচ্ছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তাতে গরিব মানুষ ও খাবারের দিকে সরকারের যে নজর নেই, তা আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এই রিপোর্ট তা স্পষ্ট করে দিল।’

কলকাতা ও দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরে বিজনেস রিপোর্টিং করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক অঞ্জন রায়। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের যে খাদ্যশস্য মজুদ আছে, তাতে এ রকম হওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমাদের গলদ আছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে। সেখানে দুর্নীতি এত বেশি যে বলার নয়। গরিব লোকের পুষ্টির অনেকটাই আসে ডাল থেকে। সেটা হাতের বাইরে চলে গেলে অপুষ্টি বাড়বেই।’

অপুষ্টির হার এবং পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজন, কম উচ্চতা ও শিশুমৃত্যুর হার বিবেচনায় নিয়ে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে প্রতিটি দেশের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স করা হয়েছে এই সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হলো শূন্য স্কোর বাড়লে বুঝতে হবে ক্ষুধার সূচকে সেই দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে? আর স্কোর কমা মানে, সেই দেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। সূত্র : দ্য হিন্দু, ডয়চে ভেলে ও জিএইচআইয়ের ওয়েবসাইট।



সাতদিনের সেরা