kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

সম্পত্তির জন্য মাকে মারধর! গ্রেপ্তার ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০৫:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সম্পত্তির জন্য মাকে মারধর! গ্রেপ্তার ছেলে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সম্পত্তির ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে এক মাকে মারধর করেছে তার ছেলে ও মেয়ে। এ ঘটনায় সন্তানদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন সেই মা। মামলা দায়েরের পর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া এলাকার মিরপুর রোডের ২/২ নম্বর বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের শিকার মায়ের নাম নার্গিস বেগম। তার সন্তানরা হলেন তানভির আহমেদ ও নায়না আহমেদ শান্তা। 

নার্গিস বেগম জানান, লালমাটিয়ার এ ব্লকের চার তলা বাড়িটি তাদের নিজেদের। তার স্বামী ১৮ বছর আগে মারা যান। এর পর নার্গিস বেগম ছেলে তানভির ও মেয়ে নায়নাকে নিয়ে বাড়িটির চার তলায় বসবাস করতেন। নিচতলাগুলোতে ফ্ল্যাট ও দোকান ভাড়া দিয়ে যে আয় হতো তাই দিয়ে চলতেন। ছেলের বয়স এখন ৩৭। মেয়ের ৩৪। মেয়ে নায়না নিজ পছন্দে বিয়ে করার পর স্বামীসহ ওই বাড়িতেই থাকতেন।

এদিকে গত ১৮ জানুয়ারি তারা তার মাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। পরে নার্গিস বেগম দোতলার একটি দোকানে থাকতেন। অবশেষে ওই দোকান থেকেও তাকে বের করার জন্য চাপ দিতে থাকে ছেলে ও মেয়ে। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ছেলে-মেয়ে দু’জনই তাকে মারধর শুরু করে। 

এক পর্যায় তালা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন নার্গিসকে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় নার্গিস বেগম মোহাম্মদপুর থানায় গেলে পুলিশ তাকে হাসপাতালে পাঠায় এবং তার ছেলে তানভিরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। নার্গিস বেগম তার ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।

নার্গিস বেগমকে আঘাতের সময় তিনি চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় কেউ একজন ভিডিও করেন। সেটিও সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। এতে দেখা গেছে, নার্গিস বেগম ভয়ে দৌড়ে ঘরের ভেতর ঢুকছেন। ওই সময়ে তার পেছন পেছন আসে তার ছেলে ও মেয়ে। মেয়ে আটকে রাখে আর ছেলে নার্গিসের মাথায় আঘাত করতে থাকে। পরে দু’জন এসে তাদেরকে নির্ভৃত করার পর নার্গিস আক্তার রক্তাক্ত মুখ নিয়েই বাসা থেকে বেরিয়ে যান। 

নার্গিস বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে পারিনি। ছেলে এখনো বিয়ে করেনি। মেয়ে নিজের পছন্দে বিয়ে করেছে আমার বাসারই এক ভাড়াটিয়াকে। এরা সবাই মাদকের সঙ্গে জড়িত। তারা আমাকে বাড়িতে থাকতে দেয় না। পরে দোকানে ছিলাম। আমার আত্মীয়রা আমার দুর্দশার কথা শোনে টাকা দিয়ে চালাচ্ছে আমাকে।’ তিনি জানান, এর আগে গত মার্চে ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে তিনি জিডিও করেছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। তানভিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি।’



সাতদিনের সেরা