kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০২১ ০১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিসর্জনে শেষ দুর্গোৎসব

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে শোভাযাত্রা ছাড়াই অশ্রুভেজা ভালোবাসায় দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন ভক্তরা। মর্ত্যে ‘বাবার বাড়ি’ বেড়ানো শেষে দোলায় চেপে ‘কৈলাসে দেবালয়ে’ ফিরেছেন ‘আনন্দময়ী’ দেবী দুর্গা। এবারের পূজায় মায়ের কাছে প্রধান প্রার্থনা ছিল বিশ্ববাসীর করোনামুক্তি। সঙ্গে মায়ের কাছে অসুর শক্তির বিনাশের প্রার্থনাও করেছেন ভক্তরা।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ৯:১১টা পর্যন্ত বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ ও ‘দর্পণ বিসর্জনের’ মাধ্যমে দুর্গাপূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি ঘটে। দশমী পূজায় প্রতিমার হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিঁদুর খেলায় মাতেন ভক্তরা। পরে বিকেল ৩টায় বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে রাজধানীতে দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সন্ধ্যার আগেই শেষ করা হয় বিসর্জন। প্রতিমা বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে নেওয়া হয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা। 

সমাপনী দিনে রাজধানীসহ দেশের সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা ছিল।

করোনার কারণে আগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিসর্জনে ছিল না শোভাযাত্রার সমারোহ। দুপুরের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ঘাটের দিকে রওনা হন ভক্তরা। শঙ্খ আর উলুধ্বনির সঙ্গে চলে খোল-করতাল, ঢাক-ঢোলের সনাতনী বাদ্য। 
কঠোর নিরাপত্তায় ওয়াইজঘাট ছাড়াও বসিলায় তুরাগে এবং সবুজবাগ এলাকায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা ঘাটে নেওয়ার পর ভক্তরা শেষবারের মতো ধূপধুনো নিয়ে আরতি করেন। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জন শেষে মন্দিরে নিয়ে আসা হয় শান্তির জল। সন্ধ্যায় মণ্ডপে করা হয় আশীর্বাদ।

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, দশভুজা দেবী দুর্গা অসুর বধ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতি শরতে কৈলাস ছেড়ে ‘কাত্যায়নী মুনির কন্যারূপে’ মর্ত্যলোকে আসেন। সন্তানদের নিয়ে পক্ষকাল পিতার গৃহে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে।

বিসর্জন বা শ্বশুরালয়ে ফেরার আগে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে সিঁদুর, পান আর দূর্বা দিয়ে বরণ করে নেন নারী পুণ্যার্থীরা। এর মধ্য দিয়ে জরা কাটিয়ে পৃথিবী যেন শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠে, সেই প্রার্থনা করা হয়। তবে এবার দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার কাছে ভক্তদের প্রার্থনা ছিল করোনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে মুক্তি।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘মহিষাসুর বধ করার মধ্য দিয়ে বিজয়ী হয়েছেন দুর্গা মা। সে কারণেই আজ (গতকাল) আমাদের আনন্দের দিন, আমরা উত্সব করি। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাই। এবার মায়ের পূজায় প্রতিদিনই করোনা দুর্যোগ থেকে মুক্তিলাভের জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে। ভক্তদের এই মনোবাসনা মা পূরণ করবেন বলে আশা করছি।’ 

চণ্ডীপাঠ, বোধন এবং দেবীর অধিবাসের মাধ্যমে গত ১১ অক্টোবর স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয় দুর্গাপূজা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এ বছর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করা হয়। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সীমিত করা হয়। এ বছর দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে হয়েছে দুর্গাপূজা। গত বছরের তুলনায় এবার বেড়েছে এক হাজার ৯০৫টি মণ্ডপ। রাজধানীতে এবার ২৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা