kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গুজবে কান দেবেন না

কুমিল্লায় গ্রেপ্তার ৪৩, ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০২১ ০২:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুজবে কান দেবেন না

কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী এবং দায়িত্বশীল নেতারা। কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তাঁরা এ আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই মহলটি কারা, কারা এদের পৃষ্ঠপোষক, তাদের আমরা চিনি।’ গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের আমরা শিগগিরই ধরব। এটি কেন তারা করেছে, তা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাব।’ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সারা দেশে যারা উসকানি দিচ্ছিল, তাদের কয়েকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’ কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে পূজা চলবে। সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

দুপুরে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানাভাবে গুজব রটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘পাকিস্তানিদের রেখে যাওয়া দোসররাই ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করছে। তারা গোপনে মন্দিরে কোরআন শরিফ রেখে ডিজিটাল মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে গুজব ছড়িয়েছে।’ গতকাল পঞ্চগড় সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন মন্ত্রী। 

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র ‘কোরআন অবমাননার’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরো অন্তত ১০টি জেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল কুমিল্লাসহ সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও পাহারা জোরদার করা হয়। ২২ জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি সদস্যদের।

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করে ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে বুধবার রাতে পূজামণ্ডপে হামলার জেরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন- হৃদয় (১৩), শামীম হোসেন (১৮), আল আমিন (১৮) ও বাবলু মিয়া (৩৫)। ওই এলাকার মন্দিরসহ আশপাশে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

কুমিল্লার পর চট্টগ্রামের বাঁশখালী, গাজীপুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, কুড়িগ্রামের উলিপুর, কক্সবাজারের পেকুয়া, বান্দরবানের লামা ও সিলেটের জকিগঞ্জে পূজামণ্ডপে হামলা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল দুপুরে কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পারের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় তিনটি মামলা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, ওই ভিডিও যিনি ভাইরাল করেছেন, তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর নাম ফয়েজ আহমেদ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে উসকানি ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি।’

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘হঠাৎ করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশবিরোধীরা চক্রান্ত শুরু করেছে। তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআনকে সামনে এনেছে।’

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বুধবার রাত পর্যন্ত ১৫টি পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে দুটি মণ্ডপের মূর্তি ও প্যান্ডেল এবং পাঁচটি মণ্ডপের গেট ভাঙচুর করা হয়। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের উলিপুরের তিন ইউনিয়নের সাত মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গাজীপুরের তিনটি মন্দিরে গতকাল ভোরের হামলার ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় বুধবার রাতে চারটি ইউনিয়নে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবানের লামায় গতকাল ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল থেকে পূজামণ্ডপ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দায় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। (প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)



সাতদিনের সেরা