kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সংক্ষিপ্ত পরিসরে মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সংক্ষিপ্ত পরিসরে মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা

করোনার কারণে দীর্ঘ দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলেছে স্কুল-কলেজ। ফলে এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে দোলাচলে ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই দোলাচল দূর করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা এবং ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক স্বাক্ষরিত এসংক্রান্ত নির্দেশনা সব আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত পরিসরে ৫০ নম্বরের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ৫০ নম্বরের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্টে ৪০ নম্বর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় থাকবে ১০ নম্বর।

অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হলো এ বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা হচ্ছে। এর বদলে তাদের সংক্ষিপ্ত পরিসরে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

জানা যায়, করোনার কারণে গত বছর স্কুলের কোনো পরীক্ষাই নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ১৮ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করা হয়। কিন্তু গত বছরের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাও নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস পরে সংক্ষিপ্ত পরিসরে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১৪

নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২ ডিসেম্বর থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। আর এ দুই পরীক্ষার মাঝের সময়েই ২৪ থেকে ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা। মাউশি অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ গণিত বিষয়ে পরীক্ষা নিতে হবে। প্রশ্নপত্রের মান হবে ৫০ নম্বরের। প্রতিটি বিষয়ে পরীক্ষার সময় হবে দেড় ঘণ্টা।

সিলেবাসের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের যেসব অধ্যায় থেকে অ্যাসাইনমেন্ট (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) দেওয়া হয়েছে সেসব অধ্যায় এবং গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রেণিকক্ষে যেসব অধ্যায়ের ওপর পাঠদান করানো হয়েছে তা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সিলেবাস হিসেবে নির্ধারিত হবে।

বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার নম্বর বিন্যাসের ব্যাপারে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলা ও ইংরেজি ৩৫ নম্বরের লিখিত ও ১৫ নম্বরের মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে যে শ্রেণিতে এ দুই বিষয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র রয়েছে তাদের দুই পত্র মিলে এই নম্বর বিভাজন হবে। সাধারণ গণিতে ৩৫ নম্বরের লিখিত ও ১৫ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

জানা যায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে একটি করে পত্র রয়েছে। আর নবম ও দশম শ্রেণিতে এ দুই বিষয়ে দুটি করে পত্র রয়েছে।

অ্যাসাইনমেন্টের ব্যাপারে বলা হয়েছে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে চলমান সব বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের ওপর ৪০ নম্বর যোগ করতে হবে। বার্ষিক পরীক্ষায় সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর আরো ১০ নম্বর যোগ করতে হবে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টে ৪০-এর সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সঙ্গে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে তাদের কর্মতৎপরতা যুক্ত করে এই ১০ নম্বর যোগ করতে হবে।  অর্থাৎ তিনটি বিষয়ের প্রতিটিতে ১০০ নম্বরের মধ্যে পরীক্ষায় ৫০, অ্যাসাইনমেন্টে ৪০ ও অন্যান্য কার্যক্রমে ১০ নম্বর যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষায় মূল্যায়ন করতে হবে। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের প্রগ্রেসিভ রিপোর্ট প্রদান করতে হবে বলে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা