kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

সোয়া দুই কোটি টিকা এ মাসেই

তৌফিক মারুফ   

৬ অক্টোবর, ২০২১ ০৩:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোয়া দুই কোটি টিকা এ মাসেই

চলতি মাসে দেশে করোনাভাইরাসের আরো প্রায় সোয়া দুই কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। এর প্রায় দুই কোটি থাকবে দ্বিতীয় ডোজ। এর মধ্য দিয়ে টিকার দুই ডোজ পূর্ণ করা মানুষের সংখ্যা চার কোটি বা মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ পার হবে বলে জানিয়েছে টিকা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র।

অন্যদিকে চীনের সঙ্গে আগের চুক্তির আওতায় এ মাসে আরো দুই কোটি ডোজ টিকা আসার কথা রয়েছে সিনোফার্ম থেকে। পাশাপাশি কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে গত দুই দিনে এসেছে ২৫ লাখ ডোজের বেশি টিকা। কোভ্যাক্স থেকে এ মাসে আরো কয়েক লাখ ডোজ টিকা আসার ক্ষেত্র প্রস্তুত আছে বলেও জানায় ওই সূত্রগুলো। তবে আগের তুলনায় টিকার জোগান এখন নিয়মিতভাবেই বাড়তে থাকলেও নিবন্ধন বা চাহিদার তুলনায় তা কম। এ কারণে দিনে ৬৭ লাখ ডোজ পর্যন্ত টিকা দেওয়ার সক্ষমতা থাকার পরও রুটিন হিসেবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র পাঁচ-ছয় লাখ ডোজ করে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে শুধু টিকার জোগানই নয়, অন্যান্য ব্যবস্থাপনারও সংকটের কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। সেটা সময়সাপেক্ষ হলেও অন্তত পাঁচ কোটি মানুষকে দুই ডোজ পূর্ণ করা গেলে অনেকটা বড় স্বস্তি মিলবে, যা আগামী মাস নাগাদ হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এ ছাড়া গত মাসে যাঁরা প্রথম ডোজ পেয়েছেন তাঁদের সংখ্যাও প্রায় দুই কোটির কাছে, যাঁদের সবাই এ মাসে দুই ডোজ পূর্ণ করবেন। ২৮-২৯ অক্টোবরে পাবেন প্রায় ৮২ লাখ মানুষ। সেদিক থেকে এ মাসেই চার কোটির মতো মানুষের টিকার দুই ডোজ পূর্ণ হবে।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা থাকলেও প্রতিদিন খুব বড় আকারে বেশি মানুষকে টিকা দেওয়াও সম্ভব নয়। এতে অন্যান্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হবে। বিশেষ করে, গত ক্যাম্পেইনের যে ৮০ হাজার কর্মী কাজ করেছেন তাঁরা অন্য স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ রেখে এটি করেছেন। ফলে প্রতিদিন সেটা করা যাবে না বলেই আমরা পাঁচ-ছয় লাখ করে দিচ্ছি। এ ছাড়া প্রতিদিন বড় পরিসরে টিকা দিতে গেলে সেই পরিমাণ টিকা আমাদের হাতে নেই। কোভ্যাক্সের টিকা আসছে ঠিকই, কিন্তু তারা খুব বেশি আগে আমাদের জানাতে পারে না যে কবে কী পরিমাণ টিকা আসবে। ফলে আমরা বেশি আগে পরিকল্পনাও করতে পারিনি।’

ফাইজারের টিকা এখন বেশি এলেও এই টিকা দেওয়া নিয়ে অনেকটা ঝামেলা হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণের অসুবিধা না থাকলেও দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য টিকার চেয়ে তাপমাত্রাজনিত জটিলতা রয়েছে। এ কারণে এত দিন ঢাকার বাইরে এ টিকা পাঠাইনি। তবে এখন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেভাবে ছক করা আছে। এ মাসে আরেক ধাপ ফাইজারের টিকা আসবে বলেও জানতে পেরেছি।’

টিকাদান কার্যক্রমের পরিচালক ডা. শামসুল হকের হিসাব অনুসারে, এ পর্যন্ত দেশে মোট টিকা এসেছে ছয় কোটি ৩৫ লাখ ৬৮ হাজার ৪২০ ডোজ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সিনোফার্মের চার কোটি ২২ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ ডোজ, মডার্নার ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডোজ, ফাইজারের ৬১ লাখ ১২ হাজার ৯৬০ ডোজ এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৬০ ডোজ। এর মধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি ২৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭২ ডোজ। টিকা হাতে আছে এক কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৮৪৮ ডোজ। অন্যদিকে নিবন্ধন করেছেন পাঁচ কোটি ১৬ লাখ তিন হাজার ৯৪ জন। ফলে এখনো নিবন্ধন করেও টিকা না পাওয়া মানুষের সংখ্যা গত রাত পর্যন্ত ছিল এক কোটি ৬৬ লাখ ২৭ হাজার ৯০।

এদিকে সোমবার রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তিনটি ফ্লাইটে দেশে এসেছে কোভ্যাক্স সুবিধার আওতায় ফাইজারের ২৫ লাখ আট হাজার ৪৮০ ডোজ টিকা। মহাপরিচালক বলেন, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণে ২৬টি আল্ট্রা লো ফ্রিজার পাওয়া গেছে ইউনিসেফ থেকে। আরো পাওয়া যাবে।



সাতদিনের সেরা