kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

সেমিনারে এমপিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বললেন

জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্পে উপকূলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্পে উপকূলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে উপকূলীয় অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য, বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকর ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পগুলোতে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি আইনি কাঠামোর দাবি করছেন।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘জলবায়ু অর্থায়নকৃত উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর মনিটরিং ও স্থানীয় নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এই আহ্বান জানান। কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে অংশ নেন সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সৈয়দা রুবিনা আক্তার ও অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. রেজাউল হক ও সহকারী পরিচালক শাকিলা ইয়াসমিন, সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তা, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সিপিআরডির নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুদ্দোহা, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের আমিনুর রসুল বাবুল, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেইন মাসুম, বিএনএনআরসির মো. বজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের সৈয়দ আমিনুল হক।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এমপি আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। যারা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়মগুলো দূর এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সরকারকে সজাগ রাখতে পারে। সুতরাং প্রয়োজনীয় আইন দ্বারা রাষ্ট্রের এই অংশটিকে অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে।

এমপি সৈয়দা রুবিনা আক্তার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে উপকূলের জনজীবনে সংকট প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে বরিশালসহ উপকূল এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

উন্নয়ন প্রকেল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও মনিটরিং জোরদারের প্রস্তাবে একমত প্রকাশ করে এমপি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে নিয়ে এসেছে। সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দ্রুতই উন্নত দেশের কাতার পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ড. রোজউল হক বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প মনিটরিংয়ে নাগরিক সমাজের এই উদ্যোগ খুবই ভালো ও শিক্ষণীয়। তবে উন্নয়ন প্রকল্পে নাগরিক সমাজের সংযুক্তির বিষয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকার প্রতিবছর হাজার হাজার উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে, যেগুলো সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ’ (আইএমইডি) দ্বারা কার্যকর পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। এই প্রেক্ষাপটে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণের সময় নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ প্রকল্পগুলোর গুণগতমান এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারে। সরকার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করতে পারে, যাতে করে নাগরকি সমাজ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলোর মনিটরিংয়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরা প্রবন্ধে বলা হয়, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে ও সামাজিক নিরীক্ষায় স্থানীয় নাগরিক সমাজের কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো প্রণয়ন, মনিটরিং করে সংসদে উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য সংসদীয় মনিটরিং কমিটি গঠন এবং জেলা ও উপজেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর গণশুনানির আয়োজন করতে হবে।



সাতদিনের সেরা