kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

লুটেরাদের পরাজিত করে শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে : সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লুটেরাদের পরাজিত করে শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে : সেলিম

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানীদের পরাজিত করে আমরা স্বাধীনতা এনেছি। এবার লুটেরাদের পরাজিত করে শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ ও ভোটাধিকার ও  গণতন্ত্র নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন প্রমূখ। 

সমাবেশে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, করোনাকালে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে। সত্তর শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। নতুন করে আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ায় এখন দেশে পাঁচ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। অপরদিকে চাল-ডাল-তেল-লবণ-চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। ফলে মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। করোনাকালে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ধারণ কঠোর থেকে কঠোরতর হয়ে উঠেছে।

সিপিবি সভাপতি বলেন, লুটপাট টিকিয়ে রাখতে লুটেরা ধনিকশ্রেণি মানুষের বাক-স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র খর্ব করছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পুলিশের খবরদারি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে মানুষের মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘুষ-দুর্নীতি-লুটপাট প্রতিরোধ, জীবন-জীবিকা, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা, ভোটাাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখতে গণসংগ্রাম ও গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলায় এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে। আড়াই হাজার টাকা করে পঞ্চাশ লাখ মানুষকে দেওয়ার কথা থাকলেও তা সকলকে দেওয়া হয় নাই। প্রণোদনার প্রায় পুরোটা শিল্পা মালিকসহ ধনী উদ্যোক্তাদের প্রদান করা হয়েছে। কৃষক, শ্রমিকদের নামে যে বরাদ্দ তা গেছে মুলত চাতাল মালিক, ব্যবসায়ী, অকৃষক জমির মালিক ও গার্মেন্ট কারখানার মালিকদের হাতে। 

তিনি আরো বলেন, শেয়ার বাজার লুণ্ঠনকারীরা সংসদে বসে আছে। ব্যবসায়ীরা মন্ত্রিসভার মূল মূল পদগুলোতে আসীন হয়ে আছে। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় চালিত করতে হলে লুটেরা ধনিকদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশের আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ও গুলিস্তানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া বরিশাল, গাইবান্ধা, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, নওগাঁ, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়াসহ অন্যান্য জেলা ও উপজেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।



সাতদিনের সেরা