kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জ-৬ উপনির্বাচন

ড. লিটনকে প্রার্থী চান আ. লীগের নেতাকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ড. লিটনকে প্রার্থী চান আ. লীগের নেতাকর্মীরা

সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের উপনির্বাচনে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটনকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাঁদের মতে, এলাকার উন্নয়ন এবং কর্মিবান্ধব নেতা হিসেবে ড. লিটনের বিকল্প নেই। তাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের হাত ধরে যেমন শাহজাদপুরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পরিবর্তন এসেছে, তেমনি ড. লিটনকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা গেলেও এলাকায় যুগান্তকারী অনেক পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং সরকার ও আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ে ভালো যোগাযোগ থাকায় তাঁর পক্ষেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব। শাহজাদপুর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৬ সংসদীয় আসন। সম্প্রতি সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। শাহজাদপুরের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো দুগ্ধ এবং তাঁতশিল্প। করতোয়া নদীর পশ্চিমে দুগ্ধশিল্প আর পূর্ব দিকে তাঁতশিল্পের প্রাধান্য। শাহজাদপুরে এই দুটি শিল্পের বিকাশে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রেখেছেন তিনি হলেন ড. লিটনের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহন। তিনি শাহজাদপুরের পোঁতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের দুইবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালেই পোঁতাজিয়া ইউনিয়নে স্থাপন হয় বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) সবচেয়ে বড় কারখানা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মোহনের হাত ধরে শাহজাদপুরে তাঁতশিল্পেরও বিকাশ হয়। তিনি পাকিস্তান আমলে তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। তৎকালীন ভারতের বোম্বে (মুম্বাই) থেকে ডিজাইন নিয়ে এসে শাহজাদপুরে নিজের কারখানায় কাপড় উৎপাদন করতেন মোহন।

জানা যায়, আব্দুল মতিন মোহনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর সন্তান সাজ্জাদ হায়দার লিটনও শাহজাদপুরের মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করে চলেছেন। তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায় শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। তাঁর বাবা আব্দুল মতিন মোহনের নামে রাস্তা, ব্রিজ নির্মাণ করেছেন। নিজস্ব জমি ও অর্থায়নে স্কুল, ঈদগাহ, কবরস্থান নির্মাণ করেছেন।

জানা যায়, গেল দুই দশকে জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন লিটন। তিনি ১৯ বছর ধরে আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। বর্তমানে তিনি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। এর আগে ২০১২ সালে যুবলীগের কমিটি গঠন করা হলে লিটন আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরও আগে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজমের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ড. লিটন ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পাদক হওয়ার পর সারা বিশ্বে যুবলীগের কর্মকাণ্ড গতি পায়।

২০০৭ সালের আলোচিত এক-এগারোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাহসী ভূমিকা রাখেন লিটন। সে সময়ের বাস্তবতায় অনেক নেতা যখন গাঢাকা দেন তখন তিনি রাজপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তির আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন। ঝুঁকি নিয়ে ও তৎকালীন সেনা সমর্থিত সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লিটন ধানমণ্ডির সুধাসদনে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

শাহজাদপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাজ্জাদ হায়দার লিটনকে আগামী উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। ড. লিটনের পরিবার ও তাঁর নিজের রাজনৈতিক অবদান, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মিবান্ধব রাজনীতি, সর্বপোরি জনসেবার মানসিকতাই তাঁকে প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখছে।

জানতে চাইলে শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলা বলেন, ‘এবারের উপনির্বাচনে দুই পরিবারের তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে মূল লড়াই হবে।’

সাজ্জাদ হায়দার লিটনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বর্তমানে ড. লিটন যুবলীগের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এলাকায়ও রয়েছে তাঁর ভালো অবস্থান।’

পোঁতাজিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনসার আলী বলেন, ‘বাবার অবস্থান এবং নিজের সাংগঠনিক পরিচয় সব মিলিয়ে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে লিটনের। আওয়ামী লীগ তাঁকে মনোনয়ন দিলে এলাকার সবাই তাঁর পক্ষে কাজ করবে। তবে যদি কোনো হাইব্রিড নেতা মনোনয়ন পায় তাহলে আমরা কষ্ট পাব।’



সাতদিনের সেরা