kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী উন্মুক্ত হলো শিল্পকলায়

বঙ্গবন্ধু-গান্ধী দুইজনই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধু-গান্ধী দুইজনই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন: শিক্ষামন্ত্রী

উপমহাদেশের দুই কিংবদন্তি রাজনৈতিক নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহাত্মা গান্ধীর জীবনীনির্ভর তথ্যচিত্রের ডিজিটাল প্রদর্শনী ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশন’ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু-মহাত্ম গান্ধী দুইজনই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন।

আজ শনিবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমির ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি অডিটরিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। সংস্কৃতি সচিব আবুল মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, মহান নেতা বঙ্গবন্ধু ও মহাত্মা গান্ধী দুজনেই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন। দুজনই ঘৃণ্য বিরোধিতার শিকার হয়েছিলেন এবং আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু তারা সবসময় নিজেদের ল্েয অবিচল ছিলেন। রাজনৈতিক দর্শন ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উভয়েই জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, মহাত্মা গান্ধী আজীবন লড়াই করেছেন অস্পৃশ্যতা, মানুষে মানুষে হিংসা ও হানাহানির বিরুদ্ধে। অহিংস আন্দোলন করে গোটা ভারতবর্ষে পরিচিতি পেয়েছেন বাপু হিসেবে। বঙ্গবন্ধুও ১৯৭১ সালের মার্চের শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজীবন একটি স্বাধীন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য লড়াই করেছেন বঙ্গবন্ধু।

ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে এই আয়োজন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, মহান দুই নেতাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে। তাদের জীবনাদর্শ থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।

ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সংগ্রাম একসূত্রে গাঁথা। দুই দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের মেলবন্ধন এই প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে। এই প্রদর্শনী নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ও কলকাতায় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, প্রদর্শনীটি ২২টি তথ্যদেয়াল ও শতাধিক ডিজিটাল মুহুর্তের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালে এই দু’জন নেতার সরাসরি সাাতের ছবিটিকে তাঁদের রাজনৈতিক আদর্শিক সমন্বয় ও ইতিহাসের বিশেষ বার্তা বাহক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘আলো আলো আমার আলো’ ও ‘চলো বাংলাদেশ’ গানের কডিওগ্রাফি প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশন’ ১১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৩নং গ্যালারীতে সকলের জন্য উš§ুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে কেউ প্রদর্শনী দেখতে পারবেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জš§শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশনের’ পর্দা উন্মোচন করেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ-এর কারণে একটু দেরিতে হলেও প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।



সাতদিনের সেরা