kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সুর ছন্দে শরৎ উৎসব

‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘অরুণ আলোর অঞ্জলি’

ছবি : শেখ হাসান

সকাল সাড়ে ৭টা। চারদিক রোদ ঝলমলে। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। এর মধ্যেই বেজে উঠল ঢোল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল গম্ভীর ধ্বনি। ইট-পাথরের ব্যস্ত নগর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হলো শরৎ উৎসব। গানের সুর আর নাচের ছন্দে শ্রোতা-দর্শকের মন ছুঁয়ে গেল শরতের স্নিগ্ধতা।

গতকাল শুক্রবার শরতের অপরূপ সৌন্দর্যে মন রাঙাতে প্রতিবছরের মতো ‘শরৎ উৎসব-১৪২৮’ আয়োজন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।

বর্ষার পর সজীব প্রকৃতিকে আরো সুন্দর করে রাঙিয়ে দেয় ঋতুরানি শরৎ। হাসনাহেনা, শিউলি আর কাশফুলের শুভ্রতা মানুষের মনকে দোলা দেয়। শরতের মোহনীয় রূপ আরো উপভোগ্য হয়ে ওঠে যখন মন ভেসে যায় সুর-ছন্দে।

শিল্পকলা একাডেমির কফি হাউস উন্মুক্ত মঞ্চে গান, ছড়া-কবিতা আবৃত্তি, নাচ ও নাটক উপস্থাপন করেন শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীরা। শরৎ বন্দনায় তাঁরা গলা ছেড়ে গেয়েছেন রবীন্দ্র-নজরুলের গান। সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল নানা আয়োজন।

সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তিনি বলেন, ‘বর্ষার পর প্রকৃতিতে একটি শান্ত-স্নিগ্ধ রূপ আবির্ভূত হয়। নদীর দুই পারে বিস্তীর্ণ দিগন্তে শুভ্র কাশফুলের দোলা, গাঢ় নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, ঘরের আঙিনায় শিউলি ফুল ঝরে পড়া, খালি পায়ে শিশিরে সিক্ত হওয়া—এসব আমাদের শরতের আগমনের জানান দেয়।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মূলত চারটি ঋতু অনুভূত হলেও আমাদের এখানে ছয় ঋতু দেখা যায়। যদিও ছয়টি ঋতু স্পষ্টভাবে এখন আর দৃশ্যমান হয় না। ঋতু বৈচিত্র্যের এই বাংলাদেশের মানুষের উৎসব প্রিয়তার কারণে এখানকার সংস্কৃতিতে নানা সময় নানা উপাদান যুক্ত হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো এসব ঋতুভিত্তিক উৎসব।’

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল সাড়ে ৪টায়। পুরো আয়োজনে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একক সংগীত, আবৃতি ও দলীয় সংগীত, নাচ ও নাটক পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি অব ফাইন আর্টস, মৈত্রী শিশুদল, গেন্ডারিয়া কিশলয় কচিকাঁচার মেলা ও শিল্পবৃত্ত অংশ নেয়।

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান যত বেশি আয়োজন করা যাবে, আমার সংস্কৃতি, প্রকৃতির সৌন্দর্য তত বেশি লালন করা যাবে। ছায়ানটের বৈশাখ উদযাপনের মতো করে আর কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তাই ওই আদলে আমরা অন্য ঋতুগুলো নিয়ে উৎসব করে আসছি।’



সাতদিনের সেরা