kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনার আশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনার আশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

ফাইল ফটো

আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন টু দ্য পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সকাল-বিকেল নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। কীভাবে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা যাবে সেসব বিষয়ে মানুষকে ভিন্নভাবে সচেতন করা হয়েছে। আমি আশা করি মাসখানের মধ্যেই এডিস মশা একটি সহনশীল জায়গায় চলে আসবে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে না, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় যেসব দেশ সফলতা পেয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

তাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে প্রতি বছর ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয় এবং সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৯ সালে আমাদের দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও ২০২০ সালে এটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম।

গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, জলবায়ুর প্রভাব থাকলেও সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে লকডাউন এবং ঈদের ছুটি। এ সময় অনেকেই বাসা বাড়ি ছেড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ায় এবং নির্মাণ শ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় এডিস মশার প্রভাব কিছুটা বেড়েছে। গত মে-জুন থেকে আরম্ভ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার প্রকোপ বেশি সময় থাকে। কারণ এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।

এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে কিছু পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু জনবল সংকট রয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে পৌরসভাগুলো তাদের সংকট কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করবে।  

তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকার তুলনায় নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ভালো তবে এটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই।  

পৌরসভাগুলোতে স্বাস্থ্য সেবায় পর্যাপ্ত জনবল নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, এ প্রতিষ্ঠান গুলোকে আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে যাতে তারা নিজেরা নাগরিক সেবা দিতে পারে।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সমাপ্ত এ প্রকল্পের মাধ্যমে এমন কিছু কাজ শুরু হয়েছে যার সুদূর প্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতোমধ্যে নগর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান পরবর্তীতে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মরণ কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধি মি. মারিজিও চিয়ান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক সরাসরি নির্বাচিত এনজিওর মাধ্যমে চারটি সিটি করপোরেশন, ১০টি পৌরসভা এলাকায় পাঁচ লাখ তিন হাজার ৬২৭টি পরিবারকে বিনামূল্যে ভাউচার কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। এছাড়া, দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পৌরসভার তিন হাজার ৬১৮ জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক হাজার ৮০১ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা