kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নগরীর মশা নিবারণে সেমিনার

‘ফগিং হচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কিন্তু অকার্যকর উপায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘ফগিং হচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কিন্তু অকার্যকর উপায়’

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি নিতে হবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকতে হবে। এই কাজটি করতে হবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে। পাশাপাশি মশা মারার জন্য ব্যবহৃত ওষুধের আমদানি শুল্ক কমাতে হবে। নাহলে ব্যবসায়ীরা এই ওষুধ আমদানিতে আগ্রহী হবে না। আজ ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা: টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ র্শীষক সেমিনার এমন মতামত দিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদ, চিকিৎসক এবং নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দরা।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই সেমিনারে অংশ নেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু অনেক পুরনো রোগ। আজও আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নাই। এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য যারা ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন বা কুড়ে ঘরেই থাকেন, সবারই উচিত নিজের ঘরের আশেপাশে পরিষ্কার করা। সচেতন না হলে এটার প্রতিকার হবে না। কিছু ব্যক্তি ওষুধের দাম বাড়িয়ে সংকট সৃষ্টি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঔষধ খাতে যেন দুর্নীতি না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ব্যবসা যখন জঙ্গিবাদে পরিণত হয় তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়। আজকাল সবাই সব জায়গায় চুরি করছে, আমি বলবো চুরি করেন, তবে একটু কম করেন।

সেমিনারে কীটতত্ত্ববিদ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মশক নিধনে জরিমানার আইন থাকা ভালো কিন্তু সেটা যেনো জনগণের ভীতির কারণ না হয়। বর্তমানে শুধু জরিমানায় সীমাবদ্ধ থাকছে কর্পোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণের কাজ। কিন্তু এর পাশাপাশি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বর্ষা কমে গেলে নিজে থেকেই মশা কমে যাবে, তখন যদি সিটি কর্পোরেশন ক্রেডিট নেয় যে তাদের প্রচেষ্টায় মশা কমেছে তাহলেতো হলো না। ঢাকা শহরে মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখানে ডেঙ্গু আক্রান্তদের নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের নিজেদের কোনো জরিপ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ দিয়ে তারা কাজ করে। এসময় তিনি সমন্বয়হীন কর্মকাণ্ড, দিক-নির্দেশনাহীন কার্যপদ্ধতি, মশা ও সংক্রামক কীট-পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় দপ্তর প্রতিষ্ঠার অভাব এবং প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবকেও মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ফগিংকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল কিন্তু অকার্যকর উপায় হিসেবে আখ্যা দিয়ে সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, এখনই রাজধানীর ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে এবং কিউলেক্সের হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলে  রাজধানীবাসী এবছর কিউলেক্সে আক্রান্ত হবে না। এসময় তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এডিস নিধনে প্রতি সপ্তাহে মশার ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ দেন। সেমিনারে সিজিএস-এর চেয়ারম্যান এবং কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. আব্দুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের মহাসচিব ডা. এম এ আজিজসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা