kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

হিন্দু মহাজোটের বিক্ষোভ

কুশপুত্তলিকা দাহ মাহফুজ আনাম ও শাহীন আনামের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৪:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুশপুত্তলিকা দাহ মাহফুজ আনাম ও শাহীন আনামের

গতকাল রাজধানীর সূত্রাপুরে বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম ও তাঁর স্বামী মাহফুজ আনামের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় এই দুজনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর সূত্রাপুরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোটের অভিষেক অনুষ্ঠান ও সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। কিন্তু কুচক্রী মহল সব সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই কুচক্রী মহল যারাই হোক তাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে সোচ্চার থাকব।’

তিনি বলেন, হিন্দু পরিবারের আইনটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এটার সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেবে। সরকার যদি মনে করে তাহলে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো মহল বিদেশি টাকা খেয়ে পারিবারিক আইন পরিবর্তন করতে পারে না, যা করার সরকার হিন্দুদের সঙ্গে আলোচনা করে করবে। ষড়যন্ত্র করে কেউ সরকারকে বিব্রত করতে পারবে না।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী বিজয় কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘একসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুরা নির্যাতিত হলেও প্রতিবাদের সাহস ছিল না। বর্তমান সরকারের কারণে হিন্দুরা রাজপথে নেমে নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে পারছে। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কারের দাবি তুলেছে। কিন্তু তারা কে আমাদের ধর্মীয় আইন পরিবর্তনের দাবি তোলার? এই দাবির মাধ্যমে তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরির চেষ্টা করছে।’

মহাজোটের সার্চ কমিটির প্রধান ডি কে সমির বলেন, হিন্দুরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। জাতীয়  পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও বিশ্বাস করেছিলেন হিন্দুদের ওপর। কিন্তু বর্তমানে একটি কুচক্রী মহল আওয়ামী লীগের সেই ভোট ব্যাংক নষ্টের চেষ্টা করছে।

হিন্দুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় ও আইন করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তনের জন্য আমাদের মধ্যে অনেক মানুষ আছে। হিন্দু আইন সম্পর্কে কিছু না জেনে মাহফুজ আনাম, তাঁর স্ত্রী শাহীন আনাম ও এঞ্জেলা গোমেজরা আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে নজর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্যফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নকুল কুমার চন্দ্র বলেন, ‘কথায় আছে, মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি। সেই অবস্থা হয়েছে মাহফুজ আনামদের। হিন্দু সমাজে যে আইন আছে তাতেই হিন্দুরা সন্তুষ্ট। কিন্তু মাহফুজ ও শাহীন আনামরা সেই আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। আসলে হিন্দুদের উপকার নয়, এর মাধ্যমে সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। হিন্দুদের সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর হীন উদ্দেশ্যে মানুষের  জন্য ফাউন্ডেশন কাজ করছে। আমি তাদের প্রতিরোধ করার আহ্বান জানাই।’

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সালমা হোসেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আপনাদের সবার দেশ, এখানে সবার সমান অধিকার আছে। আপনাদের সমস্যাগুলো দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে জানানো হবে। এ ছাড়া যেকোনো প্রয়োজনে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকব।’

জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের নবনির্বাচিত সভাপতি শ্রী প্রদীপ শংকর বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের কঠোর হস্তে প্রতিহত করা হবে।’

মহাজোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও হরিচাঁদ ঠাকুরের সাধু শ্রী নির্মল ঠাকুর বলেন, যদি হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তন করতে হয় তাহলে সরকারকে হিন্দুদের সব সংগঠনের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।  কিন্তু এই আইন যাতে পাস না হয় সে জন্য প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন ও আমরণ অনশন করার হুঁশিয়ারি জানান বক্তারা।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, আজ একটি দুষ্কৃতী মহল এই অনুষ্ঠান বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছিল। এ ছাড়াও হিন্দুদের ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কিছু চক্র। তার মধ্যে একটি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সরকারের শেষ সময়ে হিন্দু সমাজকে সরকারের ওপর বিষিয়ে তুলতে তারা হিন্দু পারিবারিক আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করছে।

এ সময় শাহীন আনামকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু সমাজের ও পরিবারের মধ্যে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করলে তাঁদের এনজিওকে ছাড়া হবে না। তাঁদের বারবার ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে, তাঁরা ক্ষমা চাননি। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে লাগাতার কর্মসূচি চলবে।



সাতদিনের সেরা