kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনার ঝুঁকিমুক্তির সহজ সুযোগ এখনই

দেশে এখন পজিটিভ রোগী মাত্র ১.০৪% বা ১৫৯৫৪ জন

তৌফিক মারুফ   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার ঝুঁকিমুক্তির সহজ সুযোগ এখনই

দেশে এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত শনাক্ত, পজিটিভ রোগী ও সুস্থতার যে হার পাওয়া গেছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে এমন পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সহজ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতি ঠেকাতে বিশেষজ্ঞরা এখনই সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

সরকারি হিসাবে গত বছরের ৮ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১৫ লাখ ৪০ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ২৭ হাজার ১৪৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯ জন। মোট পরীক্ষা হয়েছে ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৫ জন। মোট শনাক্তের হার ১৬.৪০%, সুস্থতার হার ৯৭.২০% এবং মৃত্যুর হার ১.৭৬%।

শনাক্ত, মৃত্যু ও সুস্থ হওয়া রোগীর হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে অ্যাক্টিভ পজিটিভ আছে ১৫ হাজার ৯৫৪ জন বা ১.০৪ শতাংশ। অন্যদিকে দৈনিক শনাক্তের হারও কমে এখন ৬.৪১ শতাংশ।

রোগতত্ত্ববিদ ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন যেহেতু সংক্রমণ কম আছে, রোগীও কমে গেছে তাই কমিউনিটিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাজে লাগানো খুবই সহজ। কোন এলাকায় কতজন পজিটিভ রোগী আছে তা শনাক্ত ও মনিটরিংও সহজ। এই পজিটিভ রোগীদের যদি উপযুক্ত মাত্রায় আইসোলেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়, তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষগুলোকেও শনাক্ত করা যায় এবং তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা যায় তাহলে তাদের মাধ্যমে আর সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি থাকবে না। এই কাজে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবহার করাও এখন সহজ হবে। তা না হলেও এখন যেভাবে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাতে সামনে আবারও সংক্রমণের ঊর্ধগতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ড. মুশতাক।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের এখন তিনটি কাজ করা খুবই জরুরি। এগুলো হচ্ছে, যারা শনাক্ত আছে তাদেরকে ১৪ দিন অবশ্যই আইসোলেশন নিশ্চিত করা, তাদের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে খুঁজে বের করে তাদেরকেও ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং যে এলাকায় বেশি পজিটিভ সেই এলাকায় ব্যাপকভাবে পরীক্ষা করা।’ তিনি বলছেন, শুধু পরীক্ষার আহ্বান জানিয়েই ক্ষান্ত থাকা যাবে না বা কেন্দ্রে বসে নমুনা নিলেই হবে না। বরং যে এলাকায় রোগী বেশি সেই এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। এগুলো করা গেলে সংক্রমণ বৃদ্ধির পথগুলো স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে।

ডা. জামিল আরো বলেন, এখন যারা উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় শুধু তাদের মধ্য থেকেই শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু যারা উপসর্গহীন আক্রান্ত আছে তাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ জন্যই বাড়ি বাড়ি বা কমিউনিটি পর্যায়ে পরীক্ষা করতে হবে।

বিষয়গুলো নিয়ে সতর্কতার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু সব কিছুই স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাই মানুষ এখন আমাদের কথায় কান দিচ্ছে না। আমরা যেমন বলছি তেমনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বারবার সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।’ তিনি বলেন, সবাইকে যেমন টিকা দিতে হবে, তেমনি টিকা নেওয়ার পরও মানুষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। কারণ শনাক্ত না হওয়া রোগীরা কার মধ্যে কিভাবে ভাইরাস ছড়াচ্ছে সেটা কিন্তু বোঝা মুশকিল।

ডা. নাসিমা আরো বলেন, ‘এখন যে কমসংখ্যক রোগী আছে তাদের কঠোরভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যাতে কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন তারা নিশ্চিত করেন।’

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণ ঠেকাতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত স্কুল হেলথ প্রগ্রামের আওতায় মনিটরিং শুরু হয়েছে বলে জানান ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, যদি কোথাও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রয়োজন হয় সেটাও স্থানীয় সিভিল সার্জন বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিরা করবেন।



সাতদিনের সেরা