kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তরুণ প্রজন্মকে বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জীবনী পাঠের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তরুণ প্রজন্মকে বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জীবনী পাঠের আহ্বান

তরুণ প্রজন্মকে বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) জীবনী পাঠ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। এমএন লারমার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তারা।

‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার  চেতনায় উজ্জীবিত নব প্রজন্ম’ আয়োজিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল। বক্তৃতা করেন সাংবাদিক নজরুল কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবাশীষ কুন্ডু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. স্নিগ্ধা রিজওয়ানা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, আদিবাসী যুব ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক টনি ম্যাথিউ চিরান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা প্রমূখ। শুরুতে এমএন লারমার জীবনী পাঠ করেন আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মেইনথিন প্রমীলা।

আলোচনা অংশ নিয়ে সাংবাদিক নজরুল কবীর বলেন, এমএন লারমা শুধু জুম্ম জনগোষ্ঠীর নেতা নয় তিনি নিপীড়িত মানুষের নেতা ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শ্রেণী আন্দোলনে তার ভূমিকা অনন্য। সংবিধানে ভিন্ন মত ও চিন্তা ছড়িয়ে দেওয়া দুইজন ব্যক্তি মধ্যে তিনি অন্যতম। তার লড়াই সংগ্রামের ইতিহাসকে জাতির সামনে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবাশীষ কুন্ড বলেন, বাংলাদেশে বহুত্ববাদী চিন্তা ও কাজের প্রথম  ব্যক্তি বিপ্লবী এমএন লারমা।  শুধু তাই নয় বহুত্ববাদ ও সমতাবাদী চিন্তার অন্যতম জনকও আমরা তাকে বলতে পারি। তিনিই প্রথম প্রতিবাদ করে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করা ব্যক্তি। সব ভাষা, শ্রেণী, ধর্ম-বর্ণ ও মতবাদের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, এই কথাটা এম এন লারমা ছাড়া তৎকালীন সময়ে ভাববার কিংবা দৃঢ়তার সাথে বলবার মতন কেউ ছিলনা।  তাকে কেবল জুম্ম জাতিগোষ্ঠীর নেতা নয়, বরং জাতীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. স্নিগ্ধা রিজওয়ানা বলেন, তিনি নিপীড়িত মানুষের নেতা ছিলেন। শুধু তাই নয় তিনি সাম্যের বাংলাদেশের বাসনা দেখেছিলেন। আর নারীকে শ্রেণীসংগ্রামে যুক্ত করার পেছনে তিনি অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তাকে সত্যিকার অর্থে পাঠ করতে হবে।

যুব নেতা আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, পৃথিবীর সকল অসংবাদিত নেতার মতই এমএন লারমা মাত্র ৪৪ বছর বেঁচেছিলেন। কিন্তু তার এই বর্নাঢ্য সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে তরুণ প্রজন্ম প্রায় জানেই না। তাকে নতুন প্রজন্মের সামনে নিয়ে যেতে হবে।



সাতদিনের সেরা