kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাপানি মা ও বাংলাদেশি পিতা: সমঝোতার জন্য ১২ দিন সময় দিলেন হাইকোর্ট

কন্যা শিশু দুটির সঙ্গে একদিন মা, একদিন বাবা থাকবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাপানি মা ও বাংলাদেশি পিতা: সমঝোতার জন্য ১২ দিন সময় দিলেন হাইকোর্ট

ফাইল ফটো

আলোচিত দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে বাংলাদেশী পিতা ইমরান শরীফ ও জাপানী মা নাকানো এরিকোর আইনি বিরোধের সমঝোতার জন্য উভয়পক্ষকে আরো ১২দিন সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সময় দেওয়া হয়েছে। এসময় পর্যন্ত উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য মধ্যে দেশের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ওইদিন পর্যন্ত জাপানী মা নাকানো এরিকোর করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি মূলতবি করা হয়েছে। আদালত বলেন, আমরা আশা করি বাচ্চাদের কল্যানের কথা চিন্তা করে একটি সুন্দর সমাধান হবে। এতে বহির্বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে।

এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে একদিন পিতা ও একদিন মা মেয়েদের সঙ্গে থাকবেন বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরদিন (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত মা এবং ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত পিতার থাকবেন। এভাবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মা ও বাবা পর্যায়ক্রমে একদিন পর একদিন মেয়েদের সঙ্গে থাকতে পারবেন বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ইমরান শরীফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ ও ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। নাকানো এরিকোর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

দুই কন্যা শিশুকে নিয়ে জাপানে যাবার অনুমতি চেয়ে আজ আবেদন নিয়েছেন মা নাকানো এরিকো। আবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুমতি পেলে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মেয়েদের নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন মা। মেয়েরা পিতার সঙ্গে সময় কাটাবে। আর পিতা জাপানে যে ঋণ আছে তা মা দেবে এবং পিতার বিরুদ্ধে জাপানে যে মামলা করেছে জাপান সরকার তা তুলে নিতে পদক্ষেপ নেবে মা। তাতেও যদি রাজি না হন, তাহলে তৃতীয় কোনো দেশে বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন পিতা। সেখানে যাবতীয় খরচ মা বহন করবেন। আইনজীবী শিশির মনির এ আবেদন উপস্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি মা ও বাবার জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার নিবেদন জানান।

তবে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এর বিরোধিতা করে বলেন, শিশু দুটিকে একবার জাপানে নিয়ে যেতে পারলে আর তাদের বাংলাদেশে আনা যাবে না। আমাদের আদালতের আদেশ তারা মানবে না। তিনি বলেন, বাচ্চারা বাংলাদেশেই থাকুক। মা যখন খুশী এসে দেখা-সাক্ষাত করতে পারবেন। মা যখন বাংলাদেশে আসবেন তখন প্রয়োজন হলে

পিতা বিমানের টিকিট কেটে দেবেন। সব ব্যবস্থাই পিতা করবেন। মা-বাবার জন্য আলাদা সময় নির্ধূারণের আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, সমঝোতার স্বার্থে এখন যে অবস্থা আছে সে অবস্থায়ই রাখা হোক।

উভয়পক্ষের শুনানিকালে আদালত বলেন, মা-বাবার কারণে আজ বাচ্চা দুটি সমস্যার মধ্যে রয়েছে। তারাই মূল ভিকটিম। তাই এর একটি সমাধান হওয়া দরকার।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৮ সেপ্টেম্বর এক আদেশে ৯, ১১, ১৩ ও ১৫ সেপ্টেম্বর-এই চারদিন দিবাগত রাতে মেয়েদের সঙ্গে মাকে এবং অন্য সময় মা ও পিতা উভয়েই থাকার অনুমতি দেন। কন্যা শিশু দুটিকে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরিরও অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়াও মেয়ে দুটির মা ও পিতাকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচারিত সকল ভিডিও অপসারণে পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এসব ভিডিও নির্মাতা এবং আপলোডকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জাপান থেকে কন্যা শিশু দুটিকে নিয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসেন পিতা ইমরান শরীফ। দেশে ফিরে সন্তান দুটিকে ঢাকায় কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। এ অবস্থায় গত ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মা এরিকো। এ আবেদনে হাইকোর্টের আদেশের পর গত ২২ আগস্ট রাতে শিশু দুটিকে পিতার বাসা থেকে উদ্ধার করে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে সিআইডি পুলিশ। এ অবস্থায় গত ৩১ আগস্ট একই হাইকোর্ট বেঞ্চ সেই দুই কন্যা শিশুকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানী মা ও বাংলাদেশী পিতার সঙ্গেই গুলশান এক নম্বরে চার কক্ষের একটি ভাড়া বাসায় থাকার নির্দেশনা দেন। এরপর শিশু দুটিকে তেজগাঁও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ওই বাসাতে স্থানান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত ওই বাসাতেই তারা আছেন। শিশু দুটির মা জাপানী নাগরিক নাকানো এরিকো’র করা এক রিট আবেদনের পরিপেক্ষিতে এসব আদেশ দিচ্ছেন হাইকোর্ট।



সাতদিনের সেরা