kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

১৩০ টাকা হাজিরায় চাকরি করে ৪৬০ কোটির মালিক নুরুল!

ঢাকায় ছয় বাড়ি-১৩ প্লট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৭:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৩০ টাকা হাজিরায় চাকরি করে ৪৬০ কোটির মালিক নুরুল!

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর নুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে দিনে ১৩০ টাকা মজুরিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন নুরুল ইসলাম (৪১)। এই চাকরিকে পুঁজি করে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে দালালি, পণ্য খালাস, বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালপত্র এনে অল্প সময়ে তিনি প্রায় ৪৬০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। গত সোমবার রাতে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন নুরুল। সেখান থেকে শুরু করে গত ২০ বছরে তিনি বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন। তিনি সাভারে একটি রিসোর্ট কিনেছেন। বন্দরে একটি জাহাজও কিনতে চেয়েছিলেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তাঁর কাছ থেকে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকার জাল নোট, তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যমানের মিয়ানমারের মুদ্রা, চার হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ দুই লাখ এক হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনের কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলাম দালালিসহ নানামাত্রিক অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ঢাকায় ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লট কিনেছেন। এ ছাড়া সাভার, টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে মোট ৩৭টি প্লট, বাগানবাড়ি ও বাড়ি বানিয়েছেন। অবৈধভাবে তাঁর অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

নুরুলকে টেকনাফ বন্দরকেন্দ্রিক দালাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা উল্লেখ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, এই সিন্ডিকেটে ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। তারা পণ্য খালাস ও পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ মালপত্র খালাসে সক্রিয় ছিল। এ ছাড়া কাঠ, শুঁটকি, আচার ও মাছের আড়ালে ইয়াবাসহ অবৈধ নানা পণ্য নিয়ে পাচার করত। চক্রটি টেকনাফ বন্দর, ট্রাকস্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ করত।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করতে নুরুল বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেগুলোর মধ্যে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড ও এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম। তাঁর নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে।



সাতদিনের সেরা