kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা ৬ মাসের মধ্যে নির্ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ ও বন সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক এবং জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ওপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি আদালত।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। মানবাধিকারকর্মী রফিক উদ্দিন এনায়েতের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার গোলাম সারওয়ার পায়েল। 

আদালত অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে নিঝুম দ্বীপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, ভূমি, জনপ্রশাসন এবং বন ও জলবায়ু সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১৪ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্থগিত এবং নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমানা নির্ধারণের নির্দেশনা চেয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দাখিল করা হয়। পরে একটি সম্পূরক আবেদন করা হয়। আজ এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। চল্লিশের দশকে জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে এ দ্বীপটি জেগে ওঠে। ১৯৭৪ সালে বন বিভাগ এ দ্বীপে বনায়ন শুরু করে। পরে এর প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় সরকার দ্বীপটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে সরকার পুরো নিঝুম দ্বীপকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করে। ফলে আইন অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপে জনসাধারণের অবাধ প্রবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বন নিয়ে ১১নং নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে। ২০১২ সালে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় দুটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিঝুম দ্বীপকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু এখনো সংরক্ষিত বনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। এ সুযোগে স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিরা নিঝুম দ্বীপের সংরক্ষিত বনের জমি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে সাগরঘেরা দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এ অবস্থায় সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী সংরক্ষিত নিঝুম দ্বীপকে রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর থেকে ইউনিয়ন পরিষদকে আলাদা করে পরিষদের সীমানা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান ওই আইনজীবী। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ রিট আবদেন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা