kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

নেতার উত্তরাধিকারীদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী

আগে দলে কাজ, পরে মনোনয়ন বিবেচনা

তরুণ নেতাদের দাম্ভিকতা পরিহারের নির্দেশ

তৈমুর ফারুক তুষার   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০২:২৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগে দলে কাজ, পরে মনোনয়ন বিবেচনা

আওয়ামী লীগের বহু তরুণ নেতার হামবড়া ভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ওই তরুণ নেতাদের দাম্ভিকতা পরিহার করে আওয়ামী লীগের দুর্দিনের পোড় খাওয়া নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের পুরনো নেতা, মন্ত্রী, এমপিদের পরিবারের সদস্যদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা মূল্যায়ন করা হবে। 

গতকাল আওয়ামী লীগের সংসদীয় এবং স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের এক যৌথ সভায় এই নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানিয়েছে। গণভবনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগপ্রধান সভায় জানিয়েছেন, এখন থেকে নেতার উত্তরাধিকারী হলেই তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। পারিবারিক উত্তরাধিকারীদের আগে দলীয় রাজনীতিতে অবদান রাখতে হবে, পরে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, মুহম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ।

সূত্রগুলো জানায়, সভায় আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী, এমপির উত্তরাধিকারীদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা ওঠে। কুমিল্লা-৭ আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী বাছাই করতে গিয়ে প্রসঙ্গটি উঠে আসে।

সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পারিবারিক উত্তরাধিকারী হলেই তাকে আর মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। অনেক সময় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা না থাকার পরও আমরা প্রয়াত মন্ত্রী, এমপির পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন দেই। এখন থেকে উত্তরাধিকারীদের আগে দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে হবে। ধীরে ধীরে তারা অভিজ্ঞ হয়ে উঠবে। এরপর তাদের মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করা হবে।’

ওই নেতা বলেন, ‘নেত্রী বলেছেন, উত্তরাধিকারীদের দলীয় রাজনীতির জন্য প্রস্তুত করতে হবে। হুট করে এসেই পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে মনোনয়ন পেয়ে যাওয়া, এ বিষয়টি ঠিক নয়। আগে দলের সঙ্গে যুক্ত হোক, রাজনীতি করুক, বুঝুক, এরপর তাদের মূল্যায়ন করব। মনোনয়ন পাওয়ার আগে কিছুটা স্ট্রাগল করা দরকার।’

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমপি হওয়া তো অনেক কঠিন। কিন্তু এখন ফাঁকা মাঠ পেয়ে নৌকা পেলেই অনেকে এমপি হয়ে যাচ্ছে। দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও নৌকার জোরে এমপি হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নেত্রী পারিবারিক উত্তরাধিকারীদের আগে দলে সম্পৃক্ত হতে বলেছেন, পরে মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করবেন। এ বিবেচনাতেই কুমিল্লা-৭ আসনে প্রাণ গোপাল দত্তকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, নেতাদের সন্তানরা কে কী করছেন, সেদিকেও খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। সন্তানরা মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে চলছেন কি না, দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হচ্ছেন কি না, মাদক বা অপকর্মে যুক্ত কি না—এগুলোও তাঁদের পদ-পদবি পাওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হবে।

তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দলীয় পদ এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে মূল্যায়নের জন্য নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বিভিন্ন দল থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা যেন মনোনয়ন না পান সেদিকেও সতর্ক থাকতে বলেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা হয়। এ সময়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের অনেক তরুণ নেতা পদ পেয়ে দাম্ভিক হয়ে যায়। নিজ এলাকায় সিনিয়র নেতাদের অবজ্ঞা করে, সম্মান করতে চায় না। অনেক কেন্দ্রীয় নেতা মফস্বলে গিয়ে, জেলা পর্যায়ে গিয়ে সিনিয়র মুরব্বিদের সম্মান করে না। এটা ঠিক নয়।’ জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তরুণ নেতারা অনেকে পদ পেয়ে আর মাটিতে পা ফেলতে চান না। সিনিয়রদের সম্মান করেন না। এটা আমাদের জন্য একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটি নিয়ে নেত্রী অসন্তুষ্ট। তিনি তরুণ নেতাদের দম্ভ না দেখাতে বলেছেন।’



সাতদিনের সেরা