kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৫ কার্তিক ১৪২৮। ২১ অক্টোবর ২০২১। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাবিতে থাকছে না গণরুম, কেবল বৈধ শিক্ষার্থীরা হলে থাকবেন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাবিতে থাকছে না গণরুম, কেবল বৈধ শিক্ষার্থীরা হলে থাকবেন

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসলেও পরবর্তীতে তা আর সম্ভব হয় ওঠেনি। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ব্যতীত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে নিজেরা খুলতে পারবে এমন ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

আর এ লক্ষ্যে বেশ জোরেশোরে এগোচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। তবে এখনই খুলছে না জাহাঙ্গীরনরগ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শতভাগ শিক্ষার্থী ভ্যাকসিনের আওতায় না আসা পর্যন্ত এবং সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত খুলছে না জাহাঙ্গীরনগর।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হল খুলে দেওয়া হলে সেখানে বৈধ শিক্ষার্থী ছাড়া কেউ অবস্থান করতে পারবেন না। এমনকি হলগুলোতে গণরুমও থাকছে না। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে টিকার সনদ ও হল কার্ড দেখিয়ে হলে উঠতে হবে।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল ঘুরেও দেখা গেছে, আবাসিক হলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজ শুরম্ন হয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমের কারণে যেসকল সড়ক ক্ষতিগ্রসত্ম হয়েছে সেগুলো মেরামতের কাজও চলছে।

হলে গণরুম না থাকার বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলছেন, স্নাতকোত্তর শেষ হবার পরেও এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির জোরে কিংবা অন্যান্য অবৈধ পন্থায় অসংখ্য অছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে অবস্থান করার ফলেই মূলত আসন সংকট ও গণরুমের উৎপত্তি ঘটে। এই পরিস্থিতিতে হলে অবৈধভাবে অবস্থানরতদের দখল করে রাখা আসন খালি করা গেলে গণরুমের প্রয়োজনীয়তা কমবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর শুরম্নতেই মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিলে সিট সংকট কমবে। আর বাস্তবতা হচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান না করে ঢাকায় অথবা ক্যাম্পাসের আশপাশের অঞ্চলে বসবাস করে। কাজেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হলে গণরুমের প্রয়োজনীয়তা একেবারেই থাকবে না। তবে উদ্যোগ প্রশংসার যোগ্য হলেও প্রশাসন এতে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে আবাসিক ভবনগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও চুনকাম করা হয়েছে। হলে খোলার পরে অছাত্রদের অর্থাৎ যেসব শিক্ষার্থীর একাডেমিক ইয়ার (স্নাতকোত্তর) শেষ হয়েছে, তাদেরকে হলে উঠতে দেওয়া হবে না। এছাড়া হলের মধ্যে গণরুম থাকছে না।

তিনি আরও বলেন, হল খোলা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অন্তত এক ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে তাদেরকেই শুধুমাত্র হলে উঠতে ও অবস্থান করতে দেওয়া হবে। এছাড়া কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য প্রতিটি হলের সম্মুখে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া খোলার পরে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাস্ক ও স্যানিটাইজার সরবরাহ করা হবে। এ জন্য আমরা ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিকা সনদ ও হল কার্ড দেখে বৈধ শিক্ষার্থীদের হলে ওঠানো হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা খোলা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। হলগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমরা হয়তো একটা তারিখ ঘোষণা করবো। তবে সেই তারিখ কবে হবে সেটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে তবে আমরা কয়েকটা দিন দেখতে চাচ্ছি স্কুল কলেজের ছেলে মেয়ারা কেমন আসছে, তাদের কোনো অসুবিধা হয় কিনা। এই বিষয়গুলো আমাদের একটু পর্যবেক্ষণ করা দরকার আছে। এছাড়া আমরা আরেকটু চেষ্টা করছি যে সকল শিক্ষার্থী টিকা কেমন নিয়েছে এর একটা ডাটা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। তাদের ডাটা সংগ্রহ হয়ে গেলে আমরা একটা উপসংহারে আসতে পারবো। সকল শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণ হলে এবং সরকারের একটা পরিষ্কার ইঙ্গিত আমাদের লাগবে এরপরই দ্রুত আমরা খুলবো।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে নির্দেশনা আসছে যে কোনো সাবেক শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারবে না। তাই আমরা হলে ৪৫ ব্যাচের উপরে কাউকে হলে রাখবো না।



সাতদিনের সেরা