kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

করোনাভাইরাস সংক্রমণ

পরের ঢেউ মোকাবেলায় নতুন ছক ধরে প্রস্তুতি

তৌফিক মারুফ    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পরের ঢেউ মোকাবেলায় নতুন ছক ধরে প্রস্তুতি

দেশে করোনায় সংক্রমণের হার এখন ১০ শতাংশের নিচে। কমেছে দৈনিক মৃত্যু ও শনাক্তও। ফলে হাসপাতালগুলোতে বেড, আইসিইউ বা অক্সিজেনের জন্য হাহাকার নেই। উল্টো এখন দেশে হাসপাতালগুলোর করোনা ইউনিটের ৭৭ শতাংশ জেনারেল বেড ও ৫৩ শতাংশ আইসিইউ বেড খালি আছে, যা প্রতিদিনই বাড়ছে। অক্সিজেনের মজুদ নিয়েও সমস্যা নেই। তবে এ পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্বস্তিদায়ক মনে করলেও তা কোনোভাবেই ঝুঁকিমুক্ত বলে ভাবতে নারাজ স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, আগেও একাধিকবার শনাক্ত ৫ শতাংশের কাছাকাছি গিয়েও আবার উল্টো ওপরে গেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, অনেক দেশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, আবারও ঘটছে।

এ জন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুবই সতর্ক থাকতে হবে সবাইকে। প্রস্তুতি রাখতে হবে পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য; যাতে করে সংক্রমণ আবার ঊর্ধ্বমুখী হলে তা সামাল দিতে পারা যায়। এ জন্য সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে টিকা ও স্বাস্থ্যবিধিতে জোর দিতে হবে। সেই সঙ্গে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাকে আগের তুলনায় আরো শক্তিশালী করে সক্ষমতা বাড়াতে হবে; যা নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আগের পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত করে সাজানো হচ্ছে পরবর্তী সংক্রমণ মোকাবেলার ছক। এই ছকে টিকায় গতি বাড়ানোর বিষয়টিকেই সবচেয়ে বড় করে রাখা হয়েছে।

সেদিকে নজর রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকালও বলেছেন, চলতি মাসে আরো আড়াই কোটি ডোজ টিকা দেশে আসবে। চলতি মাসে প্রায় দুই কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ১৮ বছরের নিচের বয়সী ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদেরও টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও ঠিক কবে থেকে এই পরিকল্পনা কার্যকর শুরু হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন সংক্রমণ পরিস্থিতি আগের তুলনায় কম। এটা কিছুটা স্বস্তি দিলেও যেকোনো সময় আবার খারাপ হতে পারে। সেদিকে নজর রেখেই আমাদের কার্যক্রম চলছে। আমরা পরীক্ষা আরো বাড়ানো, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় যে ঘাটতিগুলো ছিল সেগুলো দূর করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে করে অক্সিজেন সংকটে আর পড়তে না হয়। বেডও বাড়ানো হচ্ছে। আইসিইউ বাড়ানো হচ্ছে। জনবল নিয়োগেরও প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে—যেন প্রয়োজন হলেই কভিড রোগীদের সেবা দেওয়া যায়।’ তিনি আরো বলেন, জরুরি বিষয় হচ্ছে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মনোযোগী হতে হবে, টিকা নিতে হবে এবং অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন দেশের কভিড চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল ও ইউনিটগুলোর ১৬ হাজার ৪২৯টি জেনারেল বেডের মধ্যে ৭৭ শতাংশ বা ১২ হাজার ৬৫৮টি বেড খালি আছে। এক হাজার ২৯৮টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ৬৮৮টি বা ৫৩ শতাংশ আইসিইউ খালি আছে। ৮৬২টি এইচডিইউর বেডের মধ্যে ৬৭ শতাংশ বা ৫৭৮টি খালি আছে। অন্যদিকে ১১২টি হাসপাতালে এখন সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম রয়েছে, এক হাজার ৯২৮টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও দুই হাজার ৩৩৭টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর রয়েছে। অন্যদিকে মোট ২৯ হাজার ৬৭৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে রোগী আছে এখন মাত্র তিন হাজার ৩৭১ জন।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘বেশ কয়েকটি হাসপাতালে এখন অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলমান আছে। এ ছাড়া আমরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় সারা দেশে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সপ্তাহে এক দিন বৈঠক করি। পাশাপাশি মনিটরিং টিমের মাধ্যমে মনিটরিংও চলছে। যখন যে সিদ্ধান্ত হয় সেই নির্দেশনাসহ আমরা চিঠি পাঠাই। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আরটিপিসিআর মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। ফলে সেখানেই বিদেশগামীরা পরীক্ষা করতে পারবে। এর পাশাপাশি মাঠ পর্যায়েও বিদ্যমান পরীক্ষাকেন্দ্র, বুথ, নমুনা সংগ্রহ ও অ্যান্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থা চালু থাকবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কভিড ইউনিটগুলোর খালি বেড অন্য রোগীদের জন্য কাজে লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। কিন্তু এই নির্দেশনাতেই উল্লেখ থাকবে সংক্রমণ বেড়ে গেলে সেগুলো আবার কভিড রোগীদের জন্যই ব্যবহার করতে হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এখন জনবলও বাড়ানো হচ্ছে। আইসিইউর জন্য ৪০৯ জন অ্যানেসথেসিয়ালজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরো ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্টও নিয়োগ পাচ্ছেন। ফলে আশা করা করা যায়, পরবর্তী সময়ে আবারও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি হলে তা সামাল দেওয়ার কার্যকর সক্ষমতা তৈরি থাকবে।



সাতদিনের সেরা