kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বংশানুক্রমিক চাকরি পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বংশানুক্রমিক চাকরি পাবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যাতে বংশানুক্রমিকভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে পারে এবং তারা যাতে বংশানুক্রমিকভাবে এই চাকরিগুলো পায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এটি আইনেও আছে।’ পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য তৈরি হওয়া ফ্ল্যাটগুলো থেকে ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তাদের কাছ থেকে মেইনটেন্যান্সের জন্য কিছু টাকা নেওয়া যেতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে এসব নির্দেশনা দেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ কাটা রোধে এখন থেকে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। চিংড়ি চাষের জন্য যখন ঘের মালিকদের পানির প্রয়োজন হবে, তখন সেই পানি তাঁরা নিবেন। আবার যদি প্রয়োজন না হয়, তখন পানি বের করে দিবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার চারপাশে এলিভেটেড সার্কুলার রোড (চক্রাকার উড়াল সড়ক) তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মাটিতে যেহেতু জায়গা কম, তাই এলিভেটেড হলে ভালো হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার রংপুর স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই নভোথিয়েটারটি যেন শহরের প্রাণকেন্দ্র না হয়, একটু ফাঁকা জায়গায় করলে মানুষ বিনোদনের জন্যও যেতে পারবে।’ এ সময় তিনি ঢাকা নভোথিয়েটারের আদলে এটি নির্মাণ করার দিকনির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এলসি স্টেশনগুলোতে বডি ও মালামাল স্ক্যানার বসাতে হবে। নদীগুলো নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং ও ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে হবে। এ ছাড়া নদীপারের শিল্প-কারখানার বর্জ্য যাতে নদীতে ফেলা না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। শিল্প-কারখানাগুলোতে ইটিপি স্থাপন করতে হবে।’

ব্রিফিংয়ে অ্যাকসিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। আর সেই দক্ষতার ঘাটতি পূরণ করতে এই প্রকল্পের আওতায় আমাদের যুবসমাজ, নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের উপযোগী ও চাহিদাভিত্তিক কর্মীবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ ছাড়া এর আওতায় কনসালট্যান্সি, সেমিনার ও কনফারেন্স, আইসিটি সরঞ্জাম, কম্পিউটারসামগ্রী কেনা, অফিস সরঞ্জাম, আসবাব, অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ সেক্টরে কভিড-১৯ মোকাবেলাসংক্রান্ত সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা দেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মসুরের ডালে আমাদের নির্ভরশীলতা অনেক বেশি, ডাল আমাদের আমদানিও করতে হয়। আমরা ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছি, যাতে করে ডালেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারি।’

গতকাল একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে—পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১৪২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। হিলি, বুড়িমারী ও বাংলাবান্ধা এলসি স্টেশনের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদের তীরভূমিতে পিলার স্থাপন, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে, জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।



সাতদিনের সেরা