kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

করোনা পরীক্ষা কিটের দরপত্র বাতিল চেয়ে রিটের শুনানি মুলতবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরীক্ষা কিটের দরপত্র বাতিল চেয়ে রিটের শুনানি মুলতবি

করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার কিট কেনার দরপত্র বাতিল এবং এই কিট কেনায় ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দাখিল করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি ২ সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। মানবাধিকার সংগঠন ল’ এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব গত ৩১ আগস্ট এ রিট আবেদন দাখিল করেন। তিনি আদালতে রিট আবেদনটি উপস্থাপন করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।

আইনজীবী বলেন, করোনা মোকাবেলায় একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী হলো করোনা সনাক্তকরণের সঠিক মানসম্পন্ন কিট এর ব্যবহার। তিনটি লটে ১৮০ কোটি টাকার ২০ লাখ কিট কেনার জন্য গত ২২ আগস্ট উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করেছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষ। শুরু থেকেই এসব কিট সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে কিনে আসছে। কিন্তু ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর করোনা সনাক্তকরণের আরটিপিসিআর কিট উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় কেনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দরপত্রের শর্তের বেড়াজালে আটকে দেওয়া হয়েছে সুলভ মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন কিট ক্রয়ের সম্ভাবনা। একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে বাণিজ্যিক সুবিধা দিতে এটা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রতি মিলি লিটারে ২শ কপি আরএনএ ভাইরাল উপস্থিতি থাকলেই কেবল সান সিওর বায়োটেক কম্পানির কিটের মাধ্যমে পজেটিভ রিপোর্ট আসবে। কিন্তু প্রতি মিলি লিটারে ২শ কপি আরএনএ ভাইরাল না থাকলে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে। অথচ এমনও কিট উৎপাদনকারী কম্পানি রয়েছে যাদের কিট কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রতি মিলি লিটারে একশ কপি আরএনএ ভাইরাল উপস্থিত থাকলেই করোনা সনাক্ত করতে পারবে। সানসিউর কম্পানির ইউজার ম্যানুয়েল অনুযায়ী তাদের উৎপাদিত কিট শতভাগ করোনা শনাক্ত করতে পারেনা। করোনা রোগী সনাক্তের ক্ষেত্রে এই কিট অত্যন্ত দুর্বল। কিন্তু আইইডিসিআর সান সিউর কম্পানির উৎপাদিত টেস্ট কিটকে শতভাগ সনাক্তের সার্টিফিকেট দিয়েছে যা অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেই মনে হয়।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি কিটের বাজার মূল্য মাত্র ৫/৬শ টাকা হলেও শুরুতেই প্রতিটি কিট কেনা হয়েছে ৩ হাজার টাকায়। এভাবে স্বাস্থ্য খাতের প্রায় ৬শ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার হতে লুটপাট হয়েছে। বর্তমানে চীনের সানসিউর বায়োটেক নামের একটি কম্পানির উৎপাদিত এবং সরবরাহকৃত আরটিপিসিআর কিট ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই কম্পানির বাংলাদেশের এজেন্ট ওভারসিজ মার্কেটিং কর্পোরেশন।

তিনি বলেন, মেডিকেল সরঞ্জামাদি ও ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সনদ প্রদানে বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও স্বনামধন্য সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ। ওই সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত ও সনদপ্রাপ্ত অনেক করোনা টেস্ট কিট থাকা সত্ত্বেও ওইসব কিট ব্যবহারে অনুমোদন দেয়নি আইইডিসিআর। সানসিউর বায়োটেক কম্পানির কিট ছাড়া অন্য কোনো কিট সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হয়নি। একারণে সংশ্লিস্টদের আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি কর্তৃপক্ষ। একারণে রিট আবেদন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা