kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

ছোটভাই হত্যার জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, সিআইডি পরিদর্শকের তদন্তে বারণ হাইকোর্টের

কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তিনি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ্য নন: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোটভাই হত্যার জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, সিআইডি পরিদর্শকের তদন্তে বারণ হাইকোর্টের

নাটোর সিআইডির পরিদর্শক নয়ন কুমারকে সবধরণের তদন্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বগুড়ায় ৮ বছরের ছোটভাইকে হত্যার অভিযোগে ১২ বছরের বড়ভাইকে গ্রেপ্তার ও তার স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় হাইকোর্টে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এদিকে বিষয়টির ওপর হাইকোর্টে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ নির্দেশ দিয়েছেন। হাইকোর্ট বলেছেন, তার কর্মকান্ড দেখে আপাতত আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, তিনি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ্য নন। মামলার নথি থেকে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে তিনি মারাত্মক অপরাধ করেছেন। তবে তিনি যদি নির্দোষ প্রমানিত হন তবে তার কোনো ক্ষতি করা হবে না। একজন তদন্ত কর্মকর্তা অহেতুক বিপদে পড়ুক তা চাই না। আর যদি দোষী প্রমানিত হন, তবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আট বছরের শিশু হত্যা মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা সারিয়াকান্দি থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক বর্তমানে নাটোরে সিআইডির পরিদর্শক নয়ন কুমার স্বশরীরে হাইকোর্টে হাজির ছিলেন। নয়ন কুমার নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছেন। তারপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট সারোয়ার আহমেদ। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়ার পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মো. মনসুর আলী ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অপরপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার কাটাখালী গ্রামের মহিদুল ইসলামের ৮ বছরের ছেলেকে হত্যা এবং ওই ঘটনায় তারই ১২ বছরের আরেক ছেলেকে গ্রেপ্তার ও তার কাছ থেকে স্বীকারেক্তি আদায়ের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবীর করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত দিনে শুনানি হয়।

গত ১১ জুন ‘বিয়ারিং দ্য আনবিয়ারেবল’ শিরোনামে একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এই মামলায় শিশু আদালতের কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের ৫ আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। এ আবেদনে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে উচ্চ আদালতে ডাকা হলো।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট মহিদুল ইসলামের ৮ বছরের ছেলেকে হত্যার ঘটনায় তারই ১২ বছরের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ। এরপর তার কাছ থেকে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দী আদায় করে। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার বড় ভাইকে একমাত্র আসামি দেখিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আদালতের আদেশে পুনঃতদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই-র তদন্তে বড়ভাইকে নির্দোষ চিহ্নিত হয়। এছাড়া হত্যার ঘটনায় অন্য দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এনিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা