kalerkantho

সোমবার  । ১২ আশ্বিন ১৪২৮। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৯ সফর ১৪৪৩

পানিবন্দি বহু মানুষ, খাদ্যসংকট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক    

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০৩:৪৫ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



পানিবন্দি বহু মানুষ, খাদ্যসংকট

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট, সেই সঙ্গে বেড়েছে পানিবাহিত রোগও।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। দুর্গত এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যের। রংপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আর কুড়িগ্রাম ও মানিকগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। এদিকে উত্তরের জেলা গাইবান্ধা, নীলফামারী ও সিরাজগঞ্জের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। বিস্তারিত কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবরে—

রংপুর : গঙ্গাচড়ায় এবার শুরু হয়েছে ঘাঘট নদের ভাঙন। ছয় পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার পর ভাঙছে স্থানীয় কবরস্থান। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে রাস্তাসহ আরো বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ও উঠতি আমনের ক্ষেত।

স্থানীয় লোকজন জানায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ঘাঘট নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের চওড়াপাড়ায় গত দুই দিনের ভাঙনে ছয় পরিবারের ঘরবাড়ি ঘাঘটে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া ওই ইউনিয়নের নগরবন এলাকায় ঘাঘটে কবরস্থান ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মতিয়ার রহমান, রাজা মিয়া, রাজু মিয়া, লিজু মিয়া, লেবু মিয়া ও মিজানুর রহমান জানান, করোনার পাশাপাশি ঘাঘটের ভাঙনে তাঁরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। অর্থের অভাবে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করতে না পেরে ঘর ও আসবাব মাটিতেই ফেলে রেখেছেন। কোনো রকমে থাকছেন আত্মীয়ের বাড়িতে। আব্দুর রশিদ ও রবিউল ইসলাম বলেন, আরো বেশ কিছু বাড়ি, রাস্তা এবং আবাদি জমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। নগরবন এলাকার কবরস্থানও ভেঙে যাচ্ছে ঘাঘটে।

রাজবাড়ী : পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এতে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বন্যাকবলিতরা। দুর্গত এলাকায় সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনা খাবার ও গো-খাদ্যের।

গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ৭৭, পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ৭০ এবং রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে করে রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী ১৩টি ইউনিয়নের ৬৭টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

শরীয়তপুর : আবারও বাড়তে শুরু করেছে পদ্মার পানি। রবিবার সকাল ৬টায় শরীয়তপুরের সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপত্সীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজন জানায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। জেলার জাজিরা উপজেলার পালেরচর, বড়কান্দি ও জাজিরা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থানে পদ্মা নদীর পার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরের নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। গেল ১৫ দিনে পদ্মার ভাঙনে প্রায় ৭০টি বসতবাড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ : প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে পদ্মার পানি। এতে পানি ঢুকছে মুন্সীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে। প্লাবিত হচ্ছে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলো। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে শত শত মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবার ভাগ্যকূল পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং মাওয়া পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পদ্মার পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীতীরবর্তী জেলার টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলার গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-বানারী, কামারখাড়া, দিঘিরপাড়, পাঁচগাঁও এবং লৌহজং উপজেলার কলমা, কনকসার, হলদিয়া, কুমারভোগ, মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের নিচু গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। টানা পানি বাড়ায় অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায়ও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জেলার ছয়টি উপজেলায় পাঁচটন করে জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখনো দুর্ভোগে পড়া পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি না হওয়ায় এসব চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনার দুর্গম চরাঞ্চলে গত দুই সপ্তাহ ধরে অন্তত ২০ হাজার মানুষ বন্যার পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি হাঁটু পানি থেকে কোমর পানিতে ভাসছে। এতে পরিবার ও গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বানভাসি মানুষ। আবার অনেকেই বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকেই ঘরের মধ্যে মাচা করে পরিবার নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বানভাসি এসব মানুষের কেউ খোঁজখবর নিচ্ছে না। এক বেলা খেয়ে না খেয়ে দিন চলছে বন্যার্তদের। জরুরি ভিত্তিতে এসব বানভাসির মধ্যে সরকারি বা বেসরকারিভাবে এলাকায় শুষ্ক খাবার, বিশুদ্ধ পানিসহ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অতি জরুরি বলে মনে করে স্থানীয় লোকজন। 

এরই মধ্যে জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে শিবালয়, ঘিওর, দৌলতপুর, হরিরামপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট। গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরিচার যমুনা পয়েন্টে পাঁচ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এ নদীর পানি বিপত্সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার অভ্যন্তরীণ নদী কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম : নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনও পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। শনিবার বিকেলে ধরলার পানি বিপত্সীমার ৩০ ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপত্সীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে আমনের ক্ষেত রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে কলাতিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদ আলী জানান, বাড়িঘরে পানি ওঠায় বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে আছেন। ঘরের জিনিসপত্র বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। হাতিয়া গ্রাম কলাতিপাড়ার বাসিন্দা পারুল বেগম জানান, ঘরের ভেতর পানি থাকায় চৌকি উঁচু করে বাচ্চাদের নিয়ে অবস্থান নিয়ে আছেন। একই গ্রামের আনজু বেগম বলেন, ‘হাঁস-মুরগি সউগ মরি গেইছে। খাওয়াদাওয়ার খুব কষ্ট। পাক সাক করব্যার পাই না।’ এদিকে ত্রাণ সহায়তা চাহিদার তুলনায় কম বলে অভিযোগ করেছেন বন্যার্ত মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।

গাইবান্ধা : ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি কমতে শুরু করেছে। গত শনিবার বিকেল ৩টা থেকে গতকাল রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১ সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপরে এবং ঘাঘট নদের পানি ২২ সেন্টিমিটার কমে বিপত্সীমার সাত সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো নদীতীরবর্তী এলাকা, চর ও গ্রামীণ পথঘাটে পানি থাকায় মানুষ দুর্ভোগে আছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে বিতরণের জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা বিতরণের কাজ চলছে।

নীলফামারী : নীলফামারীতে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপত্সীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত শনিবার বিকেল ৩টায় সেখানে পানি প্রবাহ ছিল ২০ সেন্টিমিটার নিচে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, রবিবার সকাল ৬টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপত্সীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে দুপুর ১২টায় আরো ১৫ সেন্টিমিটার কমে সেখানে বিপত্সীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচে নামে। শনিবার বিকেল ৩টায় সেখানে পানির প্রবাহ ছিল ২০ সেন্টিমিটার নিচে।

এর আগে গত শুক্রবার সকাল ৯টায় ওই পয়েন্টে নদীর পানি বিপত্সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের তিস্তা নদীবেষ্টিত প্রায় ১৫ গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়। অন্যদিকে ঝুনাগাছ চাপনী ইউনিয়নের ভেণ্ডাবাড়ী গ্রামে তিস্তার ২ নম্বর স্পার বাঁধ ভেঙে বন্যাকবলিত সহস্রাধিক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়ে।

ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রহমান বলেন, ‘রবিবার তিস্তার পানি নেমে গেলেও ছাতুনামা ও ভেণ্ডাবাড়ী চরে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘরে এখনো বন্যার পানি আছে। তলিয়ে আছে চলাচলের রাস্তা ও ফসলি জমি। কুটিপাড়া গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের এখনো চলাচল করতে হচ্ছে নৌকায়।’

সিরাজগঞ্জ : যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি কমেছে ১৪ সেন্টিমিটার, কাজিপুর পয়েন্টে কমেছে ১১ সেন্টিমিটার এবং বাঘাবাড়ীতে কমেছে ৯ সেন্টিমিটার। তবে এখনো বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। টানা তিন সপ্তাহের বেশি দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে পানি কমতে শুরু করে। এতে বানভাসি মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও দুর্ভোগ কমেনি। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী জাকির হোসেন জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বেড়েছে। তবে এখন বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।

এদিকে যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে চৌহালী, কাজিপুর ও শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চল ও নদীতীরের মানুষ। গত কয়েক দিনে শুধু চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ৮০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক পরিবার স্থানীয় কবরস্থানে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এই উপজেলার বিনানুই থেকে চর সলিমাবাদ পর্যন্ত ভাঙনের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। গত তিন সপ্তাহে এই উপজেলার অন্তত দুই শতাধিক বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।



সাতদিনের সেরা