kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

জীবন ও কর্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনার

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার জীবনাদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে অনুকরণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার জীবনাদর্শ সাধারণ মানুষের কাছে অনুকরণীয়

উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফীসাধক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র চকুরী জীবন, সাহিত্য সাধনা ও ব্যক্তিজীবন সাধারণ মানুষের কাছে অনুকরণীয় হয়ে আছে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তারা খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার (খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা) জীবনের মূখ্য উদ্দেশ্য, সকল শ্রেণি ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে প্রেমসূত্রে আবদ্ধ করিয়া মহাপ্রভূর উদ্দেশ্য সাধন’।

শনিবার এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিয়ে তারা একথা বলেন। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট কাজী রফিকুল আলম। স্বাগত বক্তৃতা করেন নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এনামুল হক। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইঞ্জিনিয়ার কাজী আলী আজম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমিরেটার্স প্রফেসর ড. এম. শমসের আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু তৈয়ব আবু আহমেদ প্রমূখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাক আহ্ছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক ড. এম. এহ্ছানুর রহমান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার কাজী আলী আজম বলেন, ইসলামের জন্য কোরআন, খ্রিস্টানদের জন্য বাইবেল, হিন্দুদের জন্য গীতা, ইহুদীদের জন্য তাওরীত, বৈদ্ধদের জন্য ত্রিপিটক ও শিকদের জন্য গুরুসাহেব- এই সর্বধর্মের সারমর্ম, নির্যাশ ও মূলবক্তব্য নিয়ে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা তাঁর সেবার মূল দর্শন নির্ধারণ করেন। সেটা হলো স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা।

খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার উদ্ধৃতি উল্লেখ করে প্রফেসর শমসের আলী বলেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট সুফী ছিলেন হযরত মোহাম্মদ (স.) এবং আর তাছাওফের সর্বশেষ্ঠ মূল গ্রন্থ হলো আল কোরআন। আত্মা একটা স্বচ্ছ দর্পণস্বরূপ। পাপ করিলে আত্মা স্বাভাবিক নির্মলতা দুরীভূত হয়। উহাতে কালিমা জন্মে তখন উহাতে ঐশী রশ্মি প্রতিফলিত হয়না। এর উপায় অনুতাপ, লজ্জা ও তওবা।

ড. আবু তৈয়ব আবু আহমেদ বলেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) তরিকতকে খোদা প্রাপ্তির পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, সকল ইবাদতের মূখ্য উদ্দেশ্য আল্লাহ তালার সন্তুষ্টি অর্জন করা। শরীয়ত ও তরীকত হলো ইসলামের দুটি বড় অঙ্গ। শরীয়ত হলো বহিরঙ্গ এবং তরীকত হলো অন্তরঙ্গ। তরীকতই ইসলামের নির্যাস।

উল্লেখ্য, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা’র দর্শন ও কর্মসম্পর্কে আলোচনা ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে আয়োজিত এই সেমিনারে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার অনুসারীরা সংযুক্ত হন।



সাতদিনের সেরা