kalerkantho

শুক্রবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৮। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৬ সফর ১৪৪৩

ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির বর্ধিত সভা

জলদস্যুদের তাণ্ডব, লুটপাট ও অপহরণে চরম আতঙ্কে ১৭ লাখ জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলদস্যুদের তাণ্ডব, লুটপাট ও অপহরণে চরম আতঙ্কে ১৭ লাখ জেলে

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির বর্ধিত সভায় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সাগরে মাছ ধরতে গেলে আতঙ্কে থাকেন জেলেরা। সারাক্ষণই তাদের জলদস্যুদের অপহরণ আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। জলদস্যুদের তান্ডব, লুটপাট ও অপহরণের ঘটনায় বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ১৭ লাখ জেলে।

আজ শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতি আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় তারা এসব অভিযোগ করে। সারাদেশের জেলে প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইসরাইল পন্ডিত। সভায় বক্তৃতা করেন জেলে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার, সিলেট জেলা জেলে সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা সমিতির সভাপতি ডা. আলী আশরাফ, চট্টগ্রাম জেলা সমিতির সভাপতি বিজয় চন্দ্র দাস, বরিশাল জেলা সমতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বাবুল হোসেন, রংপুর জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক বজলুল হক প্রমুখ।

গভায় নেতৃবৃন্দ সরকারের কোন প্রকল্প জেলে উপকারে আসছে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ হয়েছে, সেখানে প্রকৃত জেলেদের নাম নেই। জেলে প্রতিনিধি নিয়ে সভা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। জেলেদের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেওয়া মালামাল পছন্দের লোকদের বরাদ্দ দিচ্ছে মৎস্য কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক দলের নেতারা। প্রকৃত জেলেরা খাদ্যসহায়তা, আর্থিক সহায়তা (১০ হাজার), গরু, ছাগল পালনসহ বিভিন্ন বরাদ্দ পায় না। বাস্তবে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্যজীবীদের ক্ষতিপূরণ ও খাদ্য সহায়তা এবং মা ইলিশ ও ছোট মাছ রক্ষায় জেলেদের প্রতিমাসে (ছয় মাস) ৪০ কেজি চালের পরিবর্তে ৬০ কেজি চাল এবং জেলে প্রতি ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানায়।

সভায় আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, সমিতির ব্যানারে সকল নদীর মোহনায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং, মোহনা থেকে খুটাজাল, নেট জাল উচ্ছেদ, মৎস্য বিভাগের সকল পর্যায়ের প্রকল্পের মৎস্যজীবী জেলে সংগঠনের প্রতিনিধি অন্তর্ভূক্ত করাসহ ৬ দফা দাবিতে সকল উপজেলা কর্মকর্তা বরাবরে স্বারকলিপি প্রদান করেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এসব দাবি বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি পুলিশ বিভাগ, উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা বরাবরে পৃথক স্বারকলিপিও দেওয়া হয়। এরপর মৎস্য মন্ত্রী, মৎস্য সচিব ও মৎস্য মহাপরিচালক বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তাতেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া নতুন আন্দোলন কর্মসূচী প্রণয়নের কাজ চলছে।

জলদস্যু দমন, জাল পোড়ানো, মোবাইল কোর্ট, জলোচ্ছাস, জলদস্যুসহ বিভিন্ন কারণন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবী জেলে পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবি জানান নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমারসহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় ত্রি-দেশীয় বৈঠক, মৎস্য দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় মৎস্যজীবী জেলেদের জীবন বীমা, নিহত মৎস্যজীবী জেলে পরিবারকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করতে হবে।

বিজয় চন্দ্র দাস বলেন, মৎস্য সম্পদ, মৎস্যজীবীদের রক্ষায় খোলা ও বদ্ধ জলমহলের গডফাদারের উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশের সকল জলমহলের মোহনা খনন করতে হবে। মৎস্য সম্পদ ও মৎস্যজীবী জেলেদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মৎস্য বিভাগ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কুচক্রী মহলের  চক্রান্তের কারনে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সৈয়দ বাবুর হোসেন বলেন, সারাদেশে সরকার নিষিদ্ধ জালের অজুহাতে জেলেদের কথায় কথায় নির্যাতন করা হচ্ছে। জেল জরিমানা সাজা দেয়ায় মত জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারের দেওয়া চাল, বিকল্প কর্মসংস্থানের অর্থ জেলেরা পেল কিনা সেদিকের কোন খেয়াল না করে তাদের উপর নির্যাতন চালানো অভিযোগ করেন তিনি।

বজলুল হক বলেন, সরকারি সহায়তা যেটুকু মৎস্যজীবী জেলেদের নামে বরাদ্দ হয়, সব নিয়ে যায় প্রবাবশালীরা। বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। সে কারণে সারাদেশে ১৭ লাখ মৎস্যজীবীরা সম্পূর্ণ বেকার হয়ে যায়। মৎস্যজীবী জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ডা. আলী আশরাফ বলেন, আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের অনিয়ম বন্ধে উপজেলা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় ভাবে স্বারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন করার পরেও কোন প্রতিকার হয়নি। বরং সাধারণ জেলে সম্প্রদায় দিন দিন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা বর্ধিত সভা করে যথাযথ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।



সাতদিনের সেরা