kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৮। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২০ সফর ১৪৪৩

নর্থ সাউথের প্রভাষক হত্যা, মলম পার্টির দুজনের সাজা কমল

মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৫:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নর্থ সাউথের প্রভাষক হত্যা, মলম পার্টির দুজনের সাজা কমল

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক দেওয়ান রাহাত করিম মুকুল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মলম পার্টির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাদের সাজা কমানো হয়েছে তারা হলেন-মোসারফ হোসেন ও লিটন মল্লিক।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বুধবার এ রায় দেন। মোসারফ হোসেন ও লিটন মল্লিককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে এ রায় দেন আদালত। তবে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মুক্তার হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেনের কোনো আবেদন না থাকায় এবিষয়ে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও এবিএম বায়েজীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

রায়ের আগে আদালত বলেন, এই শিক্ষক কমপক্ষে আরো ২০ বছর জাতিকে সেবা দিতে পারতেন। কিন্তু মাত্র কয়েকটি টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হলো। যদিও মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই শিক্ষককে হত্যার উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা ছিল না আসামিদের।

২০০৯ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এক রায়ে মলম পার্টির সদস্য মোসারফ হোসেন ও লিটন মল্লিককে মৃত্যুদণ্ড এবং মুক্তার হোসেন, জাহাঙ্গীর ও সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভার আলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স ও কারাবন্দি আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট চারজনের সাজা বহাল রেখে ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রায় দেন। রায়ে সিএনজি চালক আলালকে খালাস দেওয়া হয়। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মোসারফ ও লিটন। এ আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ রায় দেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রভাষক দেওয়ান রাহাত করিম মুকুলকে বিমানবন্দর সড়কের (আর্মি স্টেডিয়াম) পাশের এলাকা থেকে ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে অজ্ঞান ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(ডিএমসিএইচ) ভর্তি করে। ওই রাতেই মুকুল মারা যান। পরদিন পুলিশ গুলশান থানায় মামলা করে। কয়েকদিন পর পুলিশ অটোরিকশার মূল ড্রাইভার আলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোসারফ হাজীকে ওইবছরের ২ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর জাহাঙ্গীর হোসেন ও মুক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চারজনই রাহাত করিমকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। তদন্ত শেষে ৫ আসামির বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ২৫ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এ মামলার অপর আসামি

লিটন মল্লিক নিম্ন আদালতে রায়ের সময় পলাতক ছিলেন। রায়ের পর আত্মসমর্পন করে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা