kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার মরদেহ আছে, আমি নিজের চোখে দেখেছি : ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক   

২৯ আগস্ট, ২০২১ ১০:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার মরদেহ আছে, আমি নিজের চোখে দেখেছি : ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মরদেহ দাফন করার আগে নিজের চোখে দেখেছেন বলে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'এস এ বারী এটি (তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী) সাহেবের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে একটা কাচের বাসকেট ছিল, সেখান থেকে আমরা তার মরদেহ দেখেছি।'

শনিবার (২৮ আগস্ট) রাতে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির উদ্যোগে ‘২৮ আগস্ট ১৯৭১ : জিয়াউর রহমান কর্তৃক রৌমারীতে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম বেসামরিক প্রশাসনের উদ্বোধন’  শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই- সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির মহাসচিব নিজে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার প্রমাণ তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের মরদেহ সম্পর্কে, ‘তার বডি এখানে এসেছে কি না সে সম্পর্কে যে কথাগুলো এখন তারা বলেছেন, তার জবাবে আমি শুধু আজকে তার একটা প্রমাণ তুলে ধরতে চাই যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে তোলা হয়। তার পরে পোস্টমর্টেম করা হয়। ডা. তোফায়েল আহমেদ সাহেব তার পোস্টমর্টেম করেছিলেন। ২২টি বুলেট তার শরীর থেকে বের করা হয়।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে পোস্টমর্টেম করার পর ব্রিগেডিয়ার আ স ম হান্নান শাহ (প্রয়াত) তার মরদেহকে সামরিক এয়ার ক্রাফটে করে কুর্মিটোলায় নিয়ে এসেছিলেন। যেটা আমরা সবাই স্বচক্ষে দেখেছি। আমার মনে হয়, তখন ড. মোশাররফ হোসেন সাহেবও উপস্থিত ছিলেন। এস এ বারী এটি (উপ-প্রধানমন্ত্রী) সাহেবের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। একটা কাচের বাসকেট ছিল, সেখান থেকে আমরা তার দেহ দেখেছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে এই ধরনের কথাবার্তা বলার একটাই মাত্র উদ্দেশ্য সেটা হচ্ছে, ইতিহাসকে বিকৃত করে দেওয়া, জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশকে এই যে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হচ্ছে, সেখান থেকে মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া।

তিনি বলেন, আমাকে একজন সাংবাদিক বলেছেন- ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) ছবি দেখাতে বলেছেন। ছবি কেউ কোনো দিন দেখায় না। ওনাদের ছবিটাও কি ওনারা দেখাতে পারবেন? এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্যই হচ্ছে যে তারা ভিন্ন দিকে নিতে চায়, ভিন্নভাবে মানুষকে প্রতারিত করতে চায়। সত্যি কথা বলতে কী- এই সরকার একটা ভণ্ড সরকারে পরিণত হয়েছে, হিপোক্রেট সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

আওয়ামী লীগের এখন কোনো রাজনীতি নেই মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, তারা অন্তঃসারশূন্য একটা রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তারা জনগণের কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, তারা করোনা সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান তারা করতে পারেনি। আজকে আমাদের শিশুদের লেখা-পড়া প্রায় ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছে। অর্থনীতি একেবারে রসাতলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য, জনগণের কল্যাণের জন্য, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য তারা কোনো কাজই করতে পারেনি।  আমাদের সব অর্জন তারা ধ্বংস করে দিয়েছে, হরণ করে নিয়ে গেছে। সে জন্য তারা মিথ্যাচার করে জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে চায়।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল। বলেন, এই সরকার যত দিন থাকবে, আরো বেশিদিন যদি থাকে বাংলাদেশ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে জন্য আমাদের বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে জনঐক্য সৃষ্টি করা। ১৯৭১ সালে যেমন জিয়াউর রহমান জনযুদ্ধ শুরু করেছিলেন, সেই রকম জনযুদ্ধের জন্য আমাদেরকে ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য।



সাতদিনের সেরা