kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

ছয় বাংলাদেশি প্রকৌশলী কাবুল থেকে দোহায়

ব্র্যাকের তিনজন দেশে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৯ আগস্ট, ২০২১ ০১:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় বাংলাদেশি প্রকৌশলী কাবুল থেকে দোহায়

আফগানিস্তান থেকে ছয় বাংলাদেশি প্রকৌশলী গত শুক্রবার রাতে কাবুল থেকে নিরাপদে দোহায় পৌঁছেছেন। তাঁরা সবাই আফগানিস্তানের বৃহত্তম মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠান আফগান ওয়্যারলেসে কাজ করতেন। তাঁদের অন্যতম রাজীব বিন ইসলাম গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দোহা থেকে কালের কণ্ঠকে জানান, ‘আমরা আফগান ওয়্যারলেসের ছয় প্রকৌশলী শুক্রবার কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশের সুযোগ পাই। সেখান থেকে  যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক ফ্লাইটে অন্য আমেরিকান নাগরিকদের সঙ্গে আমরাও কাতারের দোহায় পৌঁছেছি।’

তিনি জানান, ‘আমরা বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তিনি এরই মধ্যে আমাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশনা দিয়েছেন। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার জন্য আমরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে আমেরিকান নাগরিকদের সঙ্গে নিরাপদে আছি।’ 

এদিকে ব্র্যাক গতকাল জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে তাঁদের তিন বাংলাদেশি কর্মী গতকাল দেশে ফিরেছেন। তাঁরা ২২ আগস্ট কাবুল ত্যাগ করেন এবং সেখান থেকে কাজাখস্তানে গিয়ে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে গতকাল ভোর ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁরা বাংলাদেশে আসেন। কাবুলে থাকা বাকি তিন কর্মীও নিরাপদে রয়েছেন। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্র্যাক তার কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদ বলেন, ‘আফগানিস্তানে কর্মরত কর্মীদের ঝুঁকি নিরসন করে তাঁদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল।’

আফগানিস্তানের ১০টি প্রদেশে প্রায় তিন হাজার ব্র্যাককর্মী নিয়োজিত। তাঁদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাঁদের ছয়জন দেশটি থেকে আগেই ফিরে আসেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় গতকাল শনিবার আরো তিন ব্র্যাককর্মী বাংলাদেশে ফিরে আসেন। 

আগেই ফিরতে বলেছিল সরকার : কয়েক সপ্তাহ আগেই আফগানিস্তান থেকে ফেরার জন্য বাংলাদেশিদের অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, আফগানিস্তানে বাংলাদেশিরা নিরাপদে আছেন। ভয়ে তাঁরা বিমানবন্দরে যাচ্ছেন না। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন ওই কথা বলছিলেন, তখনো ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে আফগানিস্তানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের কয়েকজনের দোহায় যাওয়ার খবর আসেনি। আফগানিস্তান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের আনতে বাংলাদেশ ভাড়া করা কোনো ফ্লাইট পাঠাবে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিস্তারিত আমি বলতে পারব না। আমি জানি না। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আফগানিস্তানে বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা ওই দেশে আছে, তাদের আমরা কয়েক সপ্তাহ আগেই অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছিলাম—আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারা নিরাপদ জায়গায় চলে যান। অনেকেই এটা গ্রহণ করেছেন। কারণ আমাদের ধারণা ছিল যে সমস্যা হতে পারে। যেহেতু আমাদের ওখানে দূতাবাস নাই, সুতরাং বেশ কঠিন হবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কেউ কেউ শুনেছেন। আমরা তখন ব্র্যাককে ‘অ্যাপ্রোচ’ করেছিলাম। তাদের লোকগুলোকে মোটামুটি নিরাপদে নিয়ে এসেছে। কিন্তু আফগানের যে ১৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী আমাদের দেশে পড়ে, তারা শুনেছি যে আফগান নাগরিক। তারা এখন আসতে চাচ্ছে। তাদের দেশে সমস্যা বলে আসতে চাচ্ছে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তাদের বের হওয়ার রাস্তা তাদেরই ঠিক করতে হবে। আমাদের তো ওখানে (আফগানিস্তানে) এমন কিছু নেই যে আমরা ওদের নিয়ে আসতে পারি।’



সাতদিনের সেরা