kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

রোহিঙ্গা সংকট

মধ্য সেপ্টেম্বরে ভাসানচরে যুক্ত হচ্ছে জাতিসংঘ

মেহেদী হাসান   

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০৩:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মধ্য সেপ্টেম্বরে ভাসানচরে যুক্ত হচ্ছে জাতিসংঘ

নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আসছে সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি যুক্ত হবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা। এ লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া নিয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের শিবির থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বিরোধিতা করলেও সরকারের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন কালের কণ্ঠকে বলেছেন, জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর দায়িত্ব রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে, না ভাসানচরে, সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়।

জানা গেছে, ভাসানচর নিয়ে জাতিসংঘের আলোচনায় বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে কক্সবাজার বা ভাসানচর যেখানেই হোক না কেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হবে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অনড় আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভাসানচরে জাতিসংঘের কাজের পরিধি কী হবে সে বিষয়টি এমওইউতে উল্লেখ থাকবে। মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে তারা যাতে খাপ খাইয়ে নিতে পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা, জীবিকাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের ভাষায় ও পাঠক্রম অনুযায়ী ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাসানচরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাদের আবার ফিরতে হবে। রাখাইন রাজ্যের আদলে ভাসানচরে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে।

কক্সবাজারের ওপর থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার চাপ কমাতে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ভাসানচরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এ পর্যন্ত আট ধাপে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরো কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ভাসানচরে স্থানান্তরে রোহিঙ্গাদের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করলেও অনেক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

ভাসানচরে জাতিসংঘের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় লন্ডন থেকে বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন, ইউকের (ব্রুক) প্রেসিডেন্ট তুন খিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাদের জন্য বছরের পর বছর সীমান্ত খোলা রাখা এবং প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলিও কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা যতক্ষণ বাংলাদেশে আছে, ততক্ষণ তাদের সুরক্ষার বিষয়টি বাংলাদেশকেই নিশ্চিত করতে হবে।’



সাতদিনের সেরা