kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কক্সবাজার সৈকতে বাড়ছে পর্যটক, কমেছে স্বাস্থ্যবিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজার সৈকতে বাড়ছে পর্যটক, কমেছে স্বাস্থ্যবিধি

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সাগরের তীরে আছড়ে পড়ছে তীব্র গর্জন করে ছুটে আসা ঢেউ। সেই ঢেউয়ের সঙ্গী হতে বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। কেউ সৈকতে ছোটাছুটি করছে, কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে ছবি তোলায় ব্যস্ত। কেউ বা আবার সমুদ্রকে আলিঙ্গন করতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে ঢেউয়ের ওপর। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) পর্যটন বাড়তে দেখা গেছে।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ১৯ আগস্ট থেকে খুলে দেওয়া হয় পর্যটনকেন্দ্র। শুরুর দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও ধীরে ধীরে বাড়ছে সেই সংখ্যা। ফলে ঘরবন্দি মানুষরা অবকাশ যাপনের সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এত দিনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। 

যদিও হোটেল মালিকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ব্যাবসায়িক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। এখনো আশানুরূপ পর্যটক না আসায় আপাতত লাভের মুখ দেখছেন না তারা।

রুস্তম আলী নামের এক শুঁটকি ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এত দিন পর সব খুলছে। মালামাল অনেক নষ্ট হইয়া গেছে। এখন কিছু বিক্রিবাট্টা হচ্ছে, তবে সেটা অল্প পরিমাণে। একসময় এই বিচ লোকে গিজগিজ করত। আর এখন দেখেন কয়টা মানুষ আছে এইহানে। ফলে বিক্রিও কম।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার বলেন, আমাদের হোটেলে একসময় কোনো রুম ফাঁকা থাকত না। এখন তো প্রায় সবই ফাঁকা। তবে খোলার দিনের তুলনায় এখন পর্যটক কিছুটা বাড়ছে। আশা করছি শুক্র-শনিবার এই সংখ্যা আরো বাড়বে।

এদিকে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের আনাগোনা বাড়লেও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে মাইকিং করা হলেও পর্যটকদের সেই বিষয়ে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।

সৈকতে মুন্সীগঞ্জ থেকে সস্ত্রীক বেড়াতে এসেছেন আহনাব হোসেন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী কখনো সাগর দেখেনি। তাই লকডাউন ছাড়ার পরই ওকে নিয়ে চলে এসেছি এখানে। সৈকতের খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে এত দূর আসা। এখানেও যদি মাস্ক পরতে হয় তাহলে ক্যামনে হবে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে হাতে গোনা গুটি কয়েক লোক ছাড়া সবাইকেই দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া ঘুরতে। 

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক দিন পর সৈকত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে পর্যটক বাড়ছে। তবে তাদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য আমাদের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, আমাদের টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। যদিও এর মধ্যেও কিছু ব্যত্যয় ঘটছে। 

স্থবির হওয়া পর্যটনশিল্পের বিকাশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানের সার্বিক বিষয়াদি ইতিবাচকভাবে চলছে। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা এটাকে আবারও আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবো। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা রয়েছে।



সাতদিনের সেরা