kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না : রোহিঙ্গা নেতা

অনলাইন ডেস্ক   

২৬ আগস্ট, ২০২১ ০৭:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না : রোহিঙ্গা নেতা

এআরএসপিএইচ এর চেয়ারম্যান মহিব উল্লাহ।

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মহিব উল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশের ওপর তাঁরা বোঝা হয়ে থাকতে চান না, মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চান। কক্সবাজারে অবস্থানরত এই রোহিঙ্গা নেতার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান

কালের কণ্ঠ : চার বছর কেটে গেল। রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান হলো না। নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর রোহিঙ্গারা কেমন আছে?

মহিব উল্লাহ : সর্বশেষ ঢলের পর চার বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা এখনো বাংলাদেশের ওপর বোঝা হয়ে আছি। এখানে আমাদের পরিচয়—বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক। নিজ দেশ ছেড়ে এভাবে বছরের পর বছর অন্য একটি দেশে অবস্থান করা আমাদের জন্য ভালো নয়। এই দেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা প্রাণে বেঁচে গেছি। এর পরও আমরা খুশি না। কারণ, এই দেশটা তো আমাদের না। আমরা যত দ্রুত সম্ভব আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে চাই।

কালের কণ্ঠ : অনেকেই বলেন, সেখানে পরিস্থিতি বেশ জটিল। আবারও সেখানে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। মিয়ানমারে আপনাদের ফেরার পথ কী? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ই বা কী করছে?

মহিব উল্লাহ : মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভালো না। সেখানে ধরপাকড় চলছে। এই মুহূর্তে ফেরা কঠিন। আমাদের ফেরার পথ নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। মিয়ানমারে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে। চাপ সৃষ্টি করলে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের মিয়ানমারে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

কালের কণ্ঠ : গত সপ্তাহেই একজন রোহিঙ্গা নারী তাঁর ওপর নিপীড়নের সাক্ষ্য দিয়েছেন আর্জেন্টিনার একটি আদালতে। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতসহ (আইসিজে) জাতিসংঘের কাঠামোগুলোর আওতায় মিয়ানমারের নিপীড়কদের জবাবদিহির চেষ্টা চলছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

মহিব উল্লাহ : আমরা বিচারিক কাঠামোগুলোতে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেছি। আমরা সাক্ষ্য, তথ্য-প্রমাণও দিচ্ছি। আমরা আশা করি, একদিন আমাদের জন্য ভালো বার্তা আসবে। হয়তো কিছুটা দেরি হবে। তবু আমরা আশাবাদী। আইসিজে যেদিন অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন সেদিন থেকেই কিন্তু আমাদের ন্যায়বিচার পাওয়া শুরু হয়ে গেছে। মিয়ানমারে যে জাতীয় ঐক্যের সরকার (সর্বদলীয় সরকার) গঠিত হয়েছে তারা আমাদের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, ক্ষমতায় এলে ফেডারেল ব্যবস্থা চালু করবে। আমাদের সমস্যা সমাধান করবে।

কালের কণ্ঠ : নির্বাসিত সর্বদলীয় সরকার বা জাতীয় ঐক্যের সরকারের মূলে আছে অং সান সু চির এনএলডি। আপনারা তো ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ওই সরকারের আমলেই নিপীড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। এখন তাদের ইতিবাচক কথা কতটা বিশ্বাস করেন? 

মহিব উল্লাহ : তারা এখন যে কথা বলছে সেগুলো আমরা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি। তারা যদি সুযোগ পায় এবং তাদের কথা রাখে তাহলে আমাদের রোহিঙ্গাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। আমরা কোনো দল বা সরকারকে সমর্থন দিতে চাই না। কে কোন সরকার তা-ও আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের সমস্যা সমাধান হলেই হলো।

কালের কণ্ঠ : আপনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখছেন?

মহিব উল্লাহ : আমি বলব, ‘হ্যাঁ’। এখন মিয়ানমারের যত লোক বলছে যে আমরা মিয়ানমারের নাগরিক, এতটা তিন-চার বছর আগেও তারা বলত না। তারা এখন বলছে যে আগে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন হয়েছে। এখন সবার ওপর হচ্ছে। আমরা যে মিয়ানমারের নাগরিক, এটি কিন্তু তার এক ধরনের স্বীকৃতি। এটি আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার একটি লক্ষণ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মিয়ানমারে পরিবর্তন এলে আমাদের রোহিঙ্গাদের ভাগ্যও এবার বদলাবে। রোহিঙ্গাদের আর এ দেশে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকতে হবে না।



সাতদিনের সেরা