kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সাংবাদিক আরিফুলকে নির্যাতন ও সাজা

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি-আরডিসির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ আগস্ট, ২০২১ ২০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি-আরডিসির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট

কুড়িগ্রামের সাবেক সহকারি কমিশনার এসএম রাহাতুল ইসলামের পদায়নের (পোষ্টিং) বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে সাবেক ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিমউদ্দিনসহ তিনজনকে পোস্টিং না দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক মো. আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিস্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করেন। রিট আবেদনে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১০জনকে বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান জানান, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে নির্যাতন ও তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির তদন্তে প্রমানিত হয়েছে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিক আরিফুলের করা ফৌজদারি মামলার আসামি ডিসি, আরডিসিসহ বেশ কয়েকজন। আইন অনুযায়ী এ মামলায় আসামির আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার কথা। কিন্তু তারা তা নেননি। ফলে আইনের চোখে তারা পলাতক। পলাতক আসামিদের সরকারি পদে পদায়ন করার সুযোগ নেই। তাদের বরখাস্ত না করে একজনকে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং অন্য তিনজনের পোস্টিংয়ের চেষ্টা চলছে, যা আইনবহির্ভূত। একারণে রিট আবেদন করা হয়েছে।

গতবছর ১৩ মার্চ মধ্যরাতে আরিফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসন। এরপর তার বাসা থেকে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করার অভিযোগে গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের দণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদন্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি মো. নাজিম উদ্দিন, সহকারি কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এসএম রাহাতুল ইসলামকে এরইমধ্যে কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। পাশাপাশি আরিফুলও গতবছর ৩১ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, সাবেক রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. নাজিম উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম থানায় ফৌজদারি মামলা করেন। এই মামলা স্থগিত চেয়ে নাজিম উদ্দিনের করা আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন গত ৭ মার্চ।

এ ঘটনার পর রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যার ধারাবাহিকতায় সুলতানা পারভীনকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত, এনডিসি রাহাতুল ইসলামের তিনটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন, আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে নিম্নধাপে নামিয়ে দেওয়া এবং রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও রিন্টু বিকাশ চাকমার বিষয়টি নিয়ে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে অন্যদের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে এনডিসি রাহাতুল ইসলামকে বরিশাল ডিসি অফিসে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা