kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সংসদ সচিবালয় আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভায় স্পিকার

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর মূল দর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ আগস্ট, ২০২১ ১৮:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল বঙ্গবন্ধুর মূল দর্শন

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি ও আন্দোলনের মূল দর্শন। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ আজ ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত। দুঃখের বিষয়, বিশ্বের ইতিহাসের জঘন্যতম ও নিকৃষ্টতম হত্যাকান্ড বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড। দীর্ঘ সময় এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।

সোমবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সংসদ সচিবালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন স্পিকার । এসময় ১৯৭৫ এর ১৫আগস্ট শহীদগণের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় সংসদ সচিবালয় মসজিদের ইমাম ক্বারী আবু রায়হানের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সভায় স্পিকার বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে বঙ্গবন্ধুর চাওয়া-পাওয়ার কিছু ছিল না, সারাজীবন বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধেও তিনি একথা বলেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে তাঁকে ছাত্রত্ব হারাতে হয়েছিল। শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্দোলন-সংগ্রামকে তিনি বেগবান করেছেন। যথাযথ সময়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিরল প্রতিভা তাঁর মধ্যে আমরা দেখতে পাই।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দর্শন ও চেতনাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ১২৮টি অডিও ভাষণ সংসদ লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ, মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ওয়েবসাইট তৈরি, শতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর একশ উক্তি, বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ, বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন প্রতিষ্ঠাসহ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ আরো অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

সভায় সংসদেও চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনকে আগামী প্রজন্মের কাছে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে তুলে ধরার বিভিন্ন উদ্যোগ মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত হয়েছে। আগামী প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবন সম্পর্কে অবহিত করতে সংসদে একটি বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী নতুন প্রজন্মের সংসদ সদস্য এবং সকলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারবেন।

সংসদের হুইপ আতিকুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রকৃতপক্ষে বাঙালি জাতিসত্তাকে বিনষ্ট করার প্রয়াস ছিল।

হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, যে নেতার জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না, আমরা এমপি, মন্ত্রী হতে পারতাম না, ব্যাংক-বীমা-কর্পোরেশন কিছুই হতো না, তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে সপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল পুনরায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা করা।



সাতদিনের সেরা