kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

গণতন্ত্র ও মানবিক সমাজ বাস্তবতা জরুরি

এ কে এম শাহনাওয়াজ   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০২:৫৮ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



গণতন্ত্র ও মানবিক সমাজ বাস্তবতা জরুরি

এ দেশের রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থা পরিচালনায় মাঝেমধ্যেই ছন্দ কেটে যাচ্ছে। আশঙ্কা করছি করোনা-উত্তরকালে নানা রকম সংকট দেখা দিলে আরেক ধরনের অস্থিরতা যুক্ত হতে পারে। যদি এখন থেকে আমাদের রাজনীতিকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক করে তুলতে না পারি এবং দুর্নীতিগ্রস্ততায় হ্রাস টেনে সমাজকে মানবিক করে তুলতে না পারি, তাহলে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের রাষ্ট্র আজ গণতান্ত্রিক ধারা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অমানবিকতার থাবায় বিক্ষত সমাজ। অর্থনৈতিক উন্নতি—অবকাঠামোগত অগ্রগতি দেশকে অনেকটা এগিয়ে রাখছে ঠিকই; কিন্তু গণতান্ত্রিক ভিত্তি না থাকলে তা কতটুকু টেকসই হবে, এ ভাবনা কিন্তু সচেতন মানুষ এড়াতে পারছে না। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে পাওয়া শক্তিই এখন সুন্দরের পথ খুঁজে পেতে শেষ ভরসা। আধুনিক জাতি, রাষ্ট্র ও সমাজ রাজনীতিবিচ্ছিন্ন হতে পারে না। রাজনীতিকে অস্বীকার করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্নপূরণও সম্ভব নয়। এ কারণে দেশ যখন নষ্ট রাজনীতির হাতে বন্দি হয়ে পড়ে, তখনই সব ক্ষেত্রে হতাশা নেমে আসে। মাঝেমধ্যে মনে হয় বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের যে পথ রচনা করে দিয়েছিলেন, সে পথ আমরা হারিয়ে ফেলছি! বেপথে হেঁটে গন্তব্য কি খুঁজে পাব?

এ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া-আসা করা দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রচর্চা অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। একমাত্র নির্বাচনে ভোট প্রদান ছাড়া আর কোনো দৃশ্যমান গণতান্ত্রিক আচরণ চিহ্নিত করার উপায় নেই। আবার এই ভোটাধিকার প্রয়োগও সব সময় স্বাভাবিক পরিবেশে হতে পারছে তা-ও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গণতন্ত্রহীনতা স্বৈরতন্ত্রকেই উৎসাহিত করে। আমাদের চলমান রাজনীতির দিকে তাকালে তেমন প্রতিবিম্ব কি আমরা দেখতে পাচ্ছি না! গণতন্ত্রহীন এমন অবস্থায় সুবিধাবাদই প্রশ্রয় পায়। দলীয়করণ প্রকট হয়ে দেখা দেয়। গণতন্ত্রচর্চা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে টাকা প্রধান নিয়ামক হিসেবে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে এখন। আর এ সূত্রেই দুর্নীতি সর্বগ্রাসী রূপ নিচ্ছে। নানা রকম নৈরাজ্যের বাড়বাড়ন্ত সমাজজীবনকে বিষময় করে তুলছে।

সরকারি অথবা বিরোধী সব রাজনৈতিক দলেরই দেশ ও জাতির জন্য দায়বদ্ধতা থাকার কথা। কিন্তু দেশবাসী কি তেমন দায়িত্বের প্রকাশ দেখতে পায়? এই যে দেশবাসী এখন ভয়ানক সংকটের মুখে। এ অবস্থায় সরকারের ঘাড়ে সব কিছু চাপিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের কি উচিত গতানুগতিক ছিদ্রান্বেষণে নিজেদের সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখা। নাকি উচিত নিজেদের যাবতীয় সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কভিড মোকাবেলায় ঝগড়া ভুলে এখন প্রয়োজন সরকারের সহযোগী হওয়ার মতো গণতান্ত্রিক আচরণ করা। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে কোনো পক্ষের নেতারাই পুরনো ছকবাঁধা ছিদ্রান্বেষণের রেকর্ড বাজানোর বাইরে এসে সময়ের বাস্তবতা ধারণ করে তাজা কোনো বক্তব্য নিয়ে আসতে পারছেন না। বিএনপি নেতাদের নৈমিত্তিক বিবৃতি ও আওয়ামী লীগের মুখপাত্রের প্রতিদিনের প্রত্যুত্তর এখন এতটাই গত্বাঁধা হয়ে গেছে যে টেলিভিশনে এসব বিবৃতি-পাল্টাবিবৃতি এলে অনেক বাড়িতে দর্শকরা চ্যানেল পরিবর্তন করে। আর যারা দেখে তাদের অনেকে কৌতুকের আনন্দ পাওয়ার জন্যই দেখে।

সব ঘরানার রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীর মধ্যে অনেকের আচরণে গণতান্ত্রিক বোধহীনতার প্রকাশ রয়েছে পদে পদে। গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ জনগণের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেওয়া এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা স্থাপন করা, তা তো নির্বাসিতই হয়ে গেছে। বক্তব্যের মঞ্চ ছাড়া জনগণ উপেক্ষিত প্রকাশ্য রাজনৈতিক আচরণেও। একসময় রাজনীতিকদের নির্বাচনের সময় জনগণকে প্রয়োজন পড়ত। বিএনপির শাসনামলের প্রথম দিকে তা-ও হালকা হয়ে গিয়েছিল। নির্বাচন নির্বাচন খেলার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন হয়েছিল তখন। ‘জনগণ’ শুধু প্রতীকমাত্র।

আমরা একটু পেছনে তাকাতে পারি। শেষবারের রাজত্বে নির্বাচনী রায় নিজ অনুকূলে রাখার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে নিশ্চিন্তে কালাতিপাত করছিলেন বিএনপি নেতা-নেত্রীরা। এরপর বিএনপির দুর্নীতিবাজ সব রক্তবীজ অসংখ্য বিএনপি-প্রাণ ভালো মানুষ কর্মী-সমর্থকদেরও ক্ষুব্ধ করে নিশ্চিন্ত মনে জাতির কলজে খুবলে যাবতীয় মধু আকণ্ঠ পান করছিল। যে ম্যানুফ্যাকচারড ভোটার তালিকার ওপর গোটা নির্ভরতা রেখে বিএনপির ক্ষমতাবান নেতা-নেত্রীরা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে দুর্নীতি করে যাচ্ছিলেন আর চিরস্থায়ী ক্ষমতাবান ভেবে ধরাকে সরাজ্ঞান করছিলেন, মুহূর্তের উল্কাপতনে তাই প্রথম খুন হতে থাকে বিএনপি। পাঠক নিশ্চয়ই মনে রাখবেন প্রথমবারের মতো ছবিযুক্ত নতুন ভোটার তালিকায় নির্বাচনের ঘোষণায় অনিবার্য অশনিসংকেত দেখা দিয়েছিল বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নে। দৃশ্যত জোটবন্ধু জামায়াতে ইসলামীর ইচ্ছায়ই নির্বাচন নামের মরণফাঁদে (বিএনপি-জামায়াত জোটের জন্য) পা দিয়েছিল বিএনপি। তাই ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এই হিসাব করতে কোনো ক্লেশ হয়নি যে ব্যাপকসংখ্যক নতুন ভোটার যদি কোনো ধরনের চাপে না থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তবে বিএনপি-জামায়াত বধ সম্পন্ন হবে। আর পরিস্থিতির সুবিধায় একমাত্র বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট গণসমর্থন পেয়ে যাবে।

নিকট অতীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে বা না থেকে আওয়ামী লীগও যে গণতান্ত্রিক আচরণের পরাকাষ্ঠা দেখাতে পেরেছিল, সে কথা বলতে পারবে না ইতিহাস। জনকল্যাণের চেয়ে সন্ত্রাসী পোষণ অথবা দলীয় সন্ত্রাসীদের শাসন না করা আর দলীয়করণের সাংস্কৃতিক আচরণ প্রকাশ্যেই দেখিয়ে যাচ্ছিল দলটিতে। আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার যুগে চাঁদাবাজি আর দখল বাণিজ্য কম করেনি দলের সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করাতে বঙ্গবন্ধু যখন পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন, তখনো ‘চোরের দল আর চাটার দল’ বলে তাঁকে আক্ষেপ করতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভাগ্যও কি অভিন্ন! এই দেশপ্রেমিক মানুষটি দলের অনেকের কাছ থেকে কি সৎ আচরণ পাচ্ছেন? রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বোধ হয় সর্বকালের রেকর্ড ছাড়াতে যাচ্ছে।

যখন বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বপ্নের আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে হাঁটছিলেন, তখন আমরা গর্ববোধ করেছি। হাজার হাজার গৃহহীনকে ঘর দেওয়ার অমন উদাহরণ কয়টি দেশের রয়েছে! কিন্তু গরিবের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে যেতে লাগল। দুর্নীতি কতটা প্রবল থাকলে দু-চার মাসের মধ্যে এসব ঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যেতে লাগল তা সহজেই অনুমেয়। অগত্যা দেখতে পাচ্ছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনন্যোপায় হয়ে রাজনৈতিক দুর্নীতিবাজদের চেয়ে দুর্নীতি থাকলেও প্রশাসনের কর্তাদের অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর বিবেচনা করে ভরসা করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে ‘জনপ্রতিনিধিদের’ বদলে নানা প্রকল্পের দায়িত্ব ছোট-বড় আমলাদের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছেন। আসলে কোথাও না কোথাও ভরসা তো করতেই হবে।

বঙ্গবন্ধুর গড়া দল আওয়ামী লীগ সুপথে চলার পথ যেন খুঁজে পাচ্ছে না। এটি গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষের জন্য খুবই কষ্টের। এ জন্য বর্তমান সময়ের আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব কোনো রকম অনুশোচনা প্রকাশ করেছে—এ কথা বোধ করি কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো গণমুখী না হয়ে দলমুখী হওয়ার সংস্কৃতিই যেন বাঁচিয়ে রাখতে চাচ্ছে। তারা কোনোভাবেই নিজেদের শোধরাতে পারেনি। তাই এখন গত্বাঁধা হয়ে গেছে দলীয় প্রতিক্রিয়া।

স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে ১৯৭৫-এর পর থেকে জনপ্রতিনিধিত্বের দর্শনটা পাল্টে গেল। আমরা বঙ্গবন্ধুর অভাব তীব্রভাবে অনুভব করলাম। গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে দেশ স্বাধীন হলো, সে দেশের গণতন্ত্রের চর্চাকারী ঐতিহ্যবাহী দলের নেতৃত্ব বিরুদ্ধ স্রোতের মুখে ঐতিহ্য আর আদর্শ থেকে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে পারল না।

প্রথমে সামরিক শাসন অতঃপর এর বেসামরিক লেবাস দেখে তারা যেন হতাশ হয়ে পড়েছিল। এ সময় থেকে এই দেশের রাজনীতি হয়ে গিয়েছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নামাবরণে ক্ষমতায় পৌঁছার প্রতিযোগিতার রাজনীতি। গণতন্ত্র আর পূর্ণ অবয়ব নিয়ে দাঁড়াতে পারল না। জেনারেলরা সেনাছাউনি থেকে এসে প্রথমে ক্ষমতা দখল করলেন, পরে উর্দি খুলে নতুন দলের নাম আর দর্শন প্রচার করে বেসামরিক হয়ে গেলেন। রাজনীতির মাঠের সুবিধাবাদী এবং সুবিধা অন্বেষী মানুষগুলোকে দলে ভেড়াতে পারলেন সহজেই। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এর বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ল।

রাজনীতির নামে ছাত্রসমাজের একাংশের আদর্শের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা হলো। পেশাজীবী সংগঠনগুলোর নৈতিকতার ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। এরই মধ্যে কথাসর্বস্ব হয়ে যাওয়া বাম দলগুলোর মধ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মানসিক বল আর অবশিষ্ট ছিল না। অন্যদিকে গড্ডলিকায় গা ভাসাল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ। তখন বড় দলগুলোর একটাই মোক্ষ হয়েছিল, নির্বাচন নির্বাচন খেলার মধ্য দিয়ে কিভাবে একে অন্যকে ডিঙিয়ে ক্ষমতায় পৌঁছা যায়। প্রতিযোগিতার গতি এত দ্রুত যে জনদরদি নেতা হয়ে ভোটারের মনোরঞ্জনের মতো ফুরসত কারো হাতে থাকেনি। বর্তমানে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়ার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারবে না। এড়াতে চাইলেও ইতিহাস বারবার মনে করিয়ে দেবে।

এর পরও আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের একটি অংশ প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থকে অতিক্রম করে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ক্ষমতার রাজনীতির বাস্তবতার ভেতর থেকেও তারা চায় বিপন্ন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে। প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক শক্তির সদম্ভ বেড়ে ওঠার অশুভ তৎপরতাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিংড়ানো তীক্ষ রশ্মি দিয়ে ঝলসে দিতে চায়। দেশের সাধারণ মানুষের বড় অংশও এই সুন্দরের প্রতীক্ষায়।

যেহেতু এ দেশের রাজনীতি বহুকাল ধরেই নানা রকম দুর্বলতার মধ্য দিয়েই বেড়ে উঠেছে, তাই নির্ভেজাল গণতন্ত্র পাওয়া আমাদের জন্য দুরূহ। দুর্বল হয়ে যাওয়া কথাসর্বস্ব বিএনপি সহসাই রাজনীতির মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তেমন বোধ হয় না। এমন অবস্থায় স্বৈরতন্ত্র শক্তিশালী হয়ে পড়ার আশঙ্কা। তবু আমরা সুন্দরের প্রত্যাশা করি।

অনেক সীমাবদ্ধতার পরও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। তিনি যদি অগ্রগতির ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনীতিতে গণতান্ত্রচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, তবে বাংলাদেশকে অনেক বেশি উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর এই শক্তি পাওয়া সম্ভব মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার মধ্য দিয়ে।

 

লেখক : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]



সাতদিনের সেরা