kalerkantho

বুধবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৮। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৪ সফর ১৪৪৩

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন হাইকোর্ট

বাল্যবিয়ে, দুই শিশুর সাজা: ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকাণ্ডে হাইকোর্টের ক্ষোভ

ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ আগস্ট, ২০২১ ১৭:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাল্যবিয়ে, দুই শিশুর সাজা: ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকাণ্ডে হাইকোর্টের ক্ষোভ

ফাইল ফটো

বাল্যবিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনোর আটপাড়া উপজেলায় দুই শিশুকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাজিয়া সুলতানার কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে এই ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের মাধ্যমে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহষ্পতিবার এ নির্দেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে যে ব্যাখ্যা পাবেন তার একটি কপি হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে খাসকামরায় বসে সাজা দেওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, গত কয়েকমাস ধরে পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট দেখছি যে, খাসকামরায় বসে বা থানায় বসে ঘটনা ঘটার অনেক পরে সাজা দেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোনার ঘটনায় খাসকামরায় বসে সাজা দেওয়া হলো। কিছুদিন আগে বরগুনায় চড়ুইপাখি মারার ঘটনায় কয়েকদিন পর কৃষককে সাজা দেওয়া হলো। কিন্তু এভাবে মোবাইল কোর্ট সাজা দিতে পারে না। আইন অনুযায়ী তারাতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বিচার করবে। এসময় হাইকোর্ট অ্যাটর্নি জেনারেলকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এবিষয়ে আপনি(অ্যাটর্নি জেনারেল) মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলুন।

এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, নেত্রকোনোর ঘটনায় কি হয়েছে তা জানি না। তবে ভ্রাম্যমান আদালত চেম্বারে বসে আদেশ দিতে পারে না। তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ প্রশিক্ষণের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আদালতকে জানান।

প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে গত পহেলা আগস্ট নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার দুওজ ইউনিয়নের একটি গ্রামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর(১৫ বছর) সঙ্গে তার সমবয়সী একজনের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই বিয়ের খবর পেয়ে সহকারি কমিশনার(ভূমি) রাজিয়া সুলতানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে একমাস করে সাজা দেন। এরপর তাদের গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এঘটনা নিয়ে গত ৪ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুই শিশুকে দণ্ড’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ই-মেইলে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের মুক্তির নির্দেশনা চাওয়া হয় ওই চিঠিতে। কারো মুক্তির জন্য কোনো বিচারপতির কাছে চিঠি দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম। এই চিঠি পাবার পরই হাইকোর্ট শিশু দুটিকে তাৎক্ষনিক মুক্তির নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিষয় নেত্রকোনার জেলা প্রশাসককে জানাতে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মো. সাইফুর রহমানকে নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশ পেয়েই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন সাইফুর রহমান। এরইমধ্যে ওই শিশুদের মামলা নিষ্পত্তি করে তাদের মুক্তি দেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। একইসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান।

এরই ধারাবাহিকতায় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানি হয়। আবেদনকারীপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের(ব্লাস্ট) পক্ষে অ্যাডভোকেট এসএম রেজাউল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নেত্রেকোনার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জবাবদিহীতার আওতায় আনার জন্য আদালতের কাছে নির্দেশনা চান। তারা বলেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বেআইনি কাজ করবেন, আর এজন্য যদি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না হয় তবে এধরণের বেআইনি কর্মকান্ড থামবে না। শুনানি শেষে হাইকোর্ট নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে আদেশ দেন।



সাতদিনের সেরা