kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

মিয়ানমারে জাতীয় ঐক্য সরকার এবং রোহিঙ্গা সমস্যার নয়া গতি-প্রকৃতি

ড. দেলোয়ার হোসেন   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০৪:২৩ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



মিয়ানমারে জাতীয় ঐক্য সরকার এবং রোহিঙ্গা সমস্যার নয়া গতি-প্রকৃতি

২০২১ সালের ৩ জুন এক টুইটার বার্তায় মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে নতুন নীতিগত অবস্থান ঘোষণা করেছে। ‘রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে নীতিগত অবস্থান’ শিরোনামে এনইউজি দ্ব্যর্থহীনভাবে উচ্চারণ করে, ‘মানবাধিকার ও মানবিক সম্মানে এবং ইউনিয়নের সংঘাত ও এর মূল কারণগুলো নির্মূল করতে এনইউজি একটি সমৃদ্ধ এবং ফেডারেল গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেখানে ইউনিয়নভুক্ত সব নৃগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণভাবে একত্রে বসবাস করতে পারে। এই উদ্দেশ্যটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক সনদে স্পষ্টভাবে বলা আছে।’ বিবৃতিটি আরো উল্লেখ করে, ‘আমরা সম্ভাব্য সব উপায়ে সামরিক একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে বসন্ত বিপ্লবে অংশ নেওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের আমাদের এবং অন্যদের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আমন্ত্রণ জানাই।’

এটি এনইউজি কর্তৃক রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনকে চিহ্নিত করে, যা ২০২১ সালের ১৬ এপ্রিলে এটি গঠিত হওয়ার পর কোনো রোহিঙ্গাকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। এটি উল্লেখ করা যেতে পারে যে এনইউজিতে একজন রাষ্ট্রপতি, স্টেট কাউন্সেলর, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং ১২টি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১১ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সেখানে পিদাংশু হুততাওকে প্রতিনিধিত্বকারী কমিটি দ্বারা নিযুক্ত ১২ উপমন্ত্রী রয়েছেন। মোট ২৬ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভায় ১৩ জন নৃগোষ্ঠীগত জাতিসত্তা এবং আটজন নারী সদস্য রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত বৈশ্বিক নাগরিক সমাজগুলো নবগঠিত বেসামরিক সরকারে রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত না করায় এনইউজির সমালোচনা করেছিল। কয়েক শতাব্দী ধরে মিয়ানমারে বসবাস করা এমন একটি সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া প্রকৃতপক্ষে এটি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যখন কিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের কথা বলে।

এনইউজির নতুন বিবৃতিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে এবং সব নৃগোষ্ঠীকে একত্রে আনার এবং মিয়ানমারে নৃশংস সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার লক্ষ্যে সত্যিকারের চেতনা সৃষ্টিতে তাদের অবস্থানের সামঞ্জস্যের প্রমাণ বহন করে। মিয়ানমারে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানটি দেশের রাজনৈতিক বিকাশে একটি সন্ধিক্ষণ, যা অবৈধতা, চরম নৃশংসতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে মিয়ানমারের জনগণ ও বেসামরিক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং উপলব্ধিকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করেছে। জীবন ও জীবিকার ঝুঁকি নিয়ে মিয়ানমারের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সামাজিক আন্দোলন জান্তা সরকার তথা বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে সম্ভবত অকল্পনীয় ছিল। বেসামরিক রাজনৈতিক শক্তিগুলো সম্ভবত মিয়ানমারে নাগরিক আন্দোলনের (সিডিএম) এমন টেকসই প্রতিরোধের কথা কল্পনা করেনি, যেখানে জনগণ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সরাসরি সামরিক শাসনের শিকার হয়েছিল। সামরিক শাসন দেশটিতে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে এনইউজির বিবৃতিটি একটি ব্যাপক মনোযোগের দাবি রাখে। এনইউজি কেন বিবৃতি দিয়েছে? মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অবস্থা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য এই বিবৃতির তাৎপর্য কী? এই প্রশ্নগুলো রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ, যারা রাষ্ট্রহীন মানুষ হিসেবে কষ্ট ভোগ করছে এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ হিসেবে বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে। বিশেষত, বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরগুলোতে ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গার উপস্থিতি, যেখানে বর্তমান বিশ্বে মানবতার এক কঠিন বাস্তবতা এবং বড় দুর্ভোগের কারণ, সেখানে মিয়ানমার নামক একটি দেশ রাতারাতি সে দেশের হাজার হাজার বাসিন্দাকে জোর করে বের করে দিচ্ছে এবং তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব কার্যত নীরব!

এনইউজির বিবৃতির তাৎপর্য বুঝতে আমরা বেশ কয়েকটি বিষয়কে চিহ্নিত করতে পারি, যেগুলো বিবেচনার দাবি রাখে। প্রথমত, রোহিঙ্গা প্রশ্নে এনইউজির অবস্থান পরিবর্তনের পেছনের কারণটি বিবৃতিটির শেষের দিকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তারা মিয়ানমারে সামরিক শাসন উত্খাত আন্দোলনে রোহিঙ্গাদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এটি শুধু রোহিঙ্গা জনগণকেই নয়, বরং রোহিঙ্গাদের সমর্থনদানকারী বিশ্বের শক্তিগুলো এবং বিভিন্ন পক্ষকেও সম্বোধন করেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এনইউজির লড়াই এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পদক্ষেপের গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এর এক বিশাল কূটনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটি বিশেষত পশ্চিমা বিশ্ব, জাতিসংঘ এবং মুসলিম দেশগুলো, যারা রোহিঙ্গাদের প্রতি একাত্মতা ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে এবং তাদের জন্য বস্তুগতভাবে সমর্থন দিয়েছে তাদের একটি বার্তা দেয়। দ্বিতীয়ত, বিবৃতিটি শুধু রোহিঙ্গাদের প্রতি এনইউজির সমর্থন ঘোষণা নয়। এতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য একটি রোডম্যাপ রয়েছে যে সংকটের জন্য এনইউজির কিছু সদস্য দায়ী ছিলেন। ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতৃত্ব রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, যখন তাদের নেত্রী অং সান সু চি ২০১১ সালে Tatmadaw (মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর স্থানীয় নাম)-এর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এবং যৌথভাবে মিয়ানমারকে শাসন ও রোহিঙ্গাদের দাবিকে তাচ্ছিল্য করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) এনএলডির নেত্রী সামরিক নেতাদের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধকেও সমর্থন করেছিলেন। এটি রোহিঙ্গাদের কাছে এবং গণতন্ত্রের যোদ্ধা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ গ্রহণযোগ্যতার জন্য ছিল বিশ্বাসঘাতকতা। অতএব তাদের ঘোষণার একটি বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য এনইউজি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের একটি উপায় দেখায়। নতুন সংবিধানে তারা ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনগুলোর মতো আইন বাতিল এবং সংশোধন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই নতুন নাগরিকত্ব আইন অবশ্যই মিয়ানমারে বা মিয়ানমারের নাগরিকের সন্তান হিসেবে যেকোনো স্থানে জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের ভিত্তি দেবে। এটি আরো উল্লেখ করে যে নাগরিক হিসেবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিতে এনইউজির জাতীয় যাচাইকরণ কার্ড বাতিল করার কাজটি প্রক্রিয়াধীন। এই দুটি আইনই মূল ভিত্তি হিসেবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এনইউজি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নের পুনর্নিশ্চয়তা দেয় এবং এটি রোহিঙ্গাদের আইনি অধিকার নিয়ে কফি আনানের ৮৮ পয়েন্টের প্রস্তাবের সঙ্গেও সম্মত হয়েছিল।

তৃতীয়ত, বিবৃতিটি রোহিঙ্গাদের অধিকার এবং মিয়ানমারে তারা যে নৃশংস অপরাধের মুখোমুখি হয়েছিল, তা স্বীকার করে। বিবৃতিটি সামরিক জান্তা এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলোর দ্বারা রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে তুলে ধরে, যারা রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব এবং তাদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতনের প্রমাণকেও রীতিমতো অস্বীকার করত। বিবৃতিটি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য এনইউজিকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। এনইউজি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের রাখাইন রাজ্যে ‘ঐচ্ছিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের’ নিশ্চয়তারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এনইউজি একটি জোরালো প্রতিশ্রুতি দেয় যে ‘আমাদের ইতিহাসে রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারের অন্য সব মানুষের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত সমস্ত অপরাধের জন্য আমরা সক্রিয়ভাবে ন্যায়বিচার এবং জবাবদিহি চাইব।’ তারা অতীতের অপরাধ ও অবিচারকে গভীরভাবে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণা দেয় যে ‘যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আমরা রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ার প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার ইচ্ছা পোষণ করছি।’

চতুর্থত, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Tatmadaw-এর দেশি-বিদেশি সমর্থক ও সহানুভূতিশীলরা কিভাবে এনইউজি ও তার নেতৃত্বের এই প্রধান নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাবে, যারা একসময় Tatmadaw--এর মতো রোহিঙ্গাদের একই চোখে দেখত। এটি স্পষ্ট যে চীন, রাশিয়া, আসিয়ান, ভারত এবং আরো কতিপয় সামরিক শাসকপন্থী শক্তি এটিকে উৎসাহদায়ক মনে করবে না। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশেষত জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে বৈশ্বিক সমর্থন পেতে এনইউজির কৌশল হিসেবে এটিকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে। পঞ্চমত, বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া যা-ই হোক না কেন, Tatmadaw  এটিকে এনইউজির ওপর কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির এক নতুন কৌশল হিসেবে ব্যবহার করবে। যা হোক, তারা এই অবস্থানটিকে অস্বীকার করবে, কারণ সামরিক প্রশাসন এরই মধ্যে এনইউজিকে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। বরং Tatmadaw  বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী ও মিয়ানমার জনগণের কাছে আবেদন জানাবে যে রোহিঙ্গাদের দেশের নাগরিক হিসেবে বৈধতা দিতে এনইউজির একটি অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে।

পরিশেষে বিষয়টির মূলকথা হলো, বিশ্বকে এই ব্যাপারটি দেখানোর জন্য এটি রোহিঙ্গাদের এমন একটি দুর্দান্ত বিজয় যে একের পর এক মিয়ানমারের শাসকরা সামরিক ও ছদ্ম সামরিক দেশটিতে রোহিঙ্গাদের অধিকার ও ন্যায়বিচারকে অবনমিত করতে তাদের সন্ত্রাসবাদী হিসেবে চিহ্নিত করাসহ মিথ্যা ন্যারেটিভ ব্যবহার করেছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী তাদের নিজস্ব পরিচয় নিয়ে মিয়ানমারে বাস করছে। এনইউজি বিশ্বদরবারে এটি জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দেশটির সামরিক জান্তা বর্ণবাদী নীতি অনুসরণ করছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে, যেটিকে ব্যাপকভাবে ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘গণহত্যা’ নামে উল্লেখ করা হয়।

উপসংহারে প্রকাশিত নতুন নীতিগত অবস্থানে তাদের দায়িত্ব বোঝাতে এবং অভিপ্রায়ের বিশ্বাসযোগ্যতা স্থাপন করতে মিয়ানমারের এনইউজির উচিত একজন জাতিগত রোহিঙ্গা সদস্যকে মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দেওয়া, যিনি নতুন নীতিতে উল্লিখিত রোহিঙ্গাদের অধিকার বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে সহায়তা করবেন। এনইউজি অবশ্যই রোহিঙ্গা নারীসহ বিশ্বব্যাপী রোহিঙ্গা জনগণের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা চালু রাখতে সচেষ্ট থাকবে। মিয়ানমারে বেসামরিক নেতৃত্বের অবস্থানের এই নতুন গতি-প্রকৃতি, যারা একসময় ক্ষমতার আসন নিয়েছিল এবং সামরিক শাসনকে সমর্থন করেছিল, রোহিঙ্গা ইস্যুর ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এবং যদি এনইউজি টিকে থাকে, তবে Tatmadaw-পরবর্তী মিয়ানমারে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং এনইউজির বৈশ্বিক সমর্থন জোরদার করবে।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



সাতদিনের সেরা