kalerkantho

বুধবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৮। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ২১ সফর ১৪৪৩

দেড় হাজার টাকায় মাইক্রোবাসে ফেনী!

লায়েকুজ্জামান ও সজিব ঘোষ   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০৩:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেড় হাজার টাকায় মাইক্রোবাসে ফেনী!

চলমান ‘কঠোর’ বিধি-নিষেধের মধ্যেও ছুটছে মাইক্রোবাস। রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে এসব মাইক্রোবাস চলছে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীর পথে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব মাইক্রোবাসে যাত্রী পরিবহন করতে স্থানীয় শ্রমিক নেতা ও পুলিশকে দিতে হচ্ছে চাঁদা। এসব চাঁদার বোঝাও বইছে যাত্রীরা। তাই ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যেতেই গুনতে হচ্ছে এক হাজার টাকা। প্রথমে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে মাইক্রোবাসের জন্য ডাকাডাকি করে ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী জড়ো করা হয়। পরে তাদের সেখান থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত নেওয়া হয় রিকশায়। কাঁচপুর সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকেই ছেড়ে যায় মাইক্রোবাস।

গতকাল মঙ্গলবার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ঘুরে দেখা যায়, বাস শ্রমিকরা চট্টগ্রামসহ কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালীর যাত্রীদের মাইক্রোবাস ভাড়া করে দেওয়ার জন্য ডাকাডাকি করছে। পরে তাদের অনুসরণ করে দেখা যায় কাঁচপুর সেতুর পূর্ব প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে আটটি মাইক্রোবাস।

যাত্রী নিয়ে ফেনীর উদ্দেশে যাত্রা করা মাইক্রোবাসচালক হিমেল বলেন, ‘ফেনী পর্যন্ত একেকজনের ভাড়া দেড় হাজার টাকা।’ পথে পুলিশ ধরে কি না জানতে চাইলে হিমেল বলেন, ‘সে জন্যই তো দেড় হাজার টাকা ভাড়া নিতে হচ্ছে। যাত্রীপ্রতি ১০০ টাকা দিতে হয় যারা যাত্রী জোগাড় করে দেয় তাদের, ১০০ টাকা দিতে হয় কাঁচপুর এলাকার শ্রমিক নেতাদের আর ৩০০ টাকা পথের পুলিশকে। এভাবেই যাত্রী আনা-নেওয়া করছি।’

এদিকে গতকাল ছিল চলমান ‘কঠোর’ বিধি-নিষেধের ১২তম দিন।

এদিন সড়কে গাড়ির চাপ, ব্যাপক মানুষের চলাচলে বেসামাল হয়ে ওঠে পুলিশের তল্লাশি চৌকিগুলো। পুলিশ না পারছে সবাইকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করতে, না পারছে সড়ক থেকে উঠে যেতে। দায়িত্বরত কয়েকজন ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে কালের কণ্ঠ’র কথা হয়। তাঁরা বলছেন, অনেকটা ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থায়ই চলছে আজকের (গতকাল) দায়িত্ব পালন। সড়কে চলা মানুষকে আটকানো যাচ্ছে না। কেউ বলছেন, তাঁরা পোশাক কারখানার শ্রমিক, কেউ ব্যাংকে যাচ্ছেন আবার অনেকে হাসপাতালে। তাঁদের কাছে যৌক্তিক কারণের অভাব নেই। এত কিছুর মধ্যেও কোনটা অপ্রয়োজন তা খোঁজার চেষ্টা চলছে। গাড়ির নামে মামলা হচ্ছে। জরিমানা ও গ্রেপ্তার হচ্ছেন অনেকে।

তখন দুপুর ১২টা। রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় কয়েক শ মানুষের জটলা। তারা সবাই নানা উপায়ে ঢাকায় ফিরেছে। একইসংখ্যক মানুষের ভিড় ছিল গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজার, জিরো পয়েন্ট ও পল্টন মোড়ে। এই পথে রয়েছে পুলিশের একাধিক তল্লাশি চৌকি। কিন্তু ঢাকায় ফেরা এই মানুষের তেমন কাউকেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এই সড়কে অন্য যানবাহনের চেয়ে রিকশার উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। রিকশায় তিনজন আর ভ্যানে ছয়জনের যাতায়াত হয়ে উঠেছে এখনকার পরিচিত ছবি। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের চলাচলও প্রায় স্বাভাবিক। মাঝেমধ্যে কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশা থামিয়ে জিজ্ঞেস করছে পুলিশ।

বিকেল ৩টায় দেখা গেল রাজধানীর রামপুরার সড়কে গাড়ির লম্বা সারি। তল্লাশি চৌকিতে ব্যস্ত কয়েকজন পুলিশ। সড়কের তল্লাশি চৌকির আশপাশে ব্যারিকেড থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের বাইরে থাকা অন্য গাড়ির চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কিছুক্ষণের মধ্যে চেকপোস্টগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আবার ব্যাপক গাড়ির চাপে সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করার খুব একটা সুযোগ নেই পুলিশের হাতে। তবু কগজে-কলমে বিধি-নিষেধ যেহেতু চলছে, তাই তাদেরও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লকডাউনের সড়ক বিশৃঙ্খল হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যেও গ্রেপ্তার হচ্ছেন কারা। যাঁরা জরিমানা গুনছেন, যেসব গাড়ির নামে মামলা করা হচ্ছে, সেগুলোই বা কিসের ভিত্তিতে—এমন প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়কে এখন মানুষ বাড়ছে। সবাইকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করা সম্ভব না। এর মধ্যেও যাদের কারণ একেবারেই যুক্তিসংগত না, তাদেরকেই গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা হচ্ছে। আর গাড়ির ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলেই বেশি মামলা হচ্ছে।’

যদিও গতকাল অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার অপরাধে ৩৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১২০ জনকে এক লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আর ৫৩২টি গাড়ির নামে মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এসব মামলার বিপরীতে ১১ লাখ ২৩ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়।



সাতদিনের সেরা