kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

সাক্ষাৎকার

অনেকেই সুযোগ নিয়ে লিপ্ত নানা অপকর্মে

মাহবুব-উল-আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগ

অনলাইন ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০৩:১০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনেকেই সুযোগ নিয়ে লিপ্ত নানা অপকর্মে

ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সুযোগসন্ধানীরা ব্যক্তিস্বার্থে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে তৈরি করছে বহু ভুঁইফোড় সংগঠন। এমনই এক সংগঠন ‘চাকরিজীবী লীগের’ নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হয়েছেন। একই ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত অন্যদের বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, করোনা মহামারিতে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের উদ্যোগসহ নানা বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন না যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরের মতো অনেকেই দলের নাম ব্যবহার করে নানা অপকর্মে যুক্ত হয়েছেন?

মাহবুব-উল আলম হানিফ : হ্যাঁ, যুক্ত হয়েছে। টানা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই দলের প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। বাড়ছে জনপ্রিয়তা। এই সময়টাতে এটাও দেখা গেছে, কিছু সুবিধাবাদী হঠাৎ করে এসে আওয়ামী লীগের নাম অথবা ‘লীগ’ শব্দ জুড়ে দিয়ে সংগঠন তৈরি করেছে। এদের কাছে আদর্শ বলতে কিছু নেই। এরা কখনো আওয়ামী লীগের চেতনার হতে পারে না। এরা সুযোগসন্ধানী। ব্যক্তিগত ফায়দা লুটতে চায়। অনেকেই এই সুযোগ নিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে।

কালের কণ্ঠ : হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু একই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরো অনেকেই যুক্ত। তাঁরা কারা আপনারা জানেন। এঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

মাহবুব-উল আলম হানিফ : এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় ২০১৫ সালে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন ভুঁইফোড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হয়। সে অনুযায়ী অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তারপর বেশ কয়েক বছর এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়নি। আবার তা শুরু হয়েছে। এই সুযোগসন্ধানীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের কণ্ঠ : প্রায়ই দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কোন্দল প্রকট আকার ধারণ করছে। অনেক সময় তা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। কেন এসব ঘটনা ঘটছে বলে আপনি মনে করেন?

মাহবুব-উল আলম হানিফ : আওয়ামী লীগ একটি বড় সংগঠন। এখানে তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। দেখা গেছে, একটি ওয়ার্ডে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নেতৃত্ব পেতে চান। এই প্রতিযোগিতা অনেক সময় কোন্দলে রূপ নেয়।

কালের কণ্ঠ : দলীয় কোন্দল থেকে বড় কোনো ঘটনা ঘটলে অনেক সময়ই আপনারা এর পেছনে অনুপ্রবেশকারীরা জড়িত থাকার কথা বলেন, তাদের দায়ী করেন। বাস্তবেই কি অনুপ্রবেশকারীরা দায়ী বলে মনে করেন?

মাহবুব-উল আলম হানিফ : অনেক ক্ষেত্রে তাই। যারা হঠাৎ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নানা অপকর্মে যুক্ত হয়, তারাই এসব ঘটনা ঘটায়। কারণ তাদের কোনো নীতি-আদর্শ ও চেতনা নেই। তাদের একটাই লক্ষ্য, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা।

কালের কণ্ঠ : সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে দলীয় কোন্দল নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি?

মাহবুব-উল আলম হানিফ : কোথাও সংকট দেখা দিলে তা নিরসনের চেষ্টা করা হয়। এটা নিয়মিত কাজ।

কালের কণ্ঠ : বছরের পর বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা দলীয় কোন্দলের অন্যতম কারণ বলে কর্মীরা মনে করেন। এই কোন্দল নিরসনে দ্রুতই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন বা এসব স্থানে কাউন্সিলের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না?

মাহবুব-উল আলম হানিফ : আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূলের সব কাউন্সিল শেষ করতে দলের সভানেত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যে মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে এখন সীমিত আকারে সাংগঠনিক তৎপরতা চলছে। করোনার প্রকোপ কমে এলে তৎপরতা বাড়ানো হবে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন, নভেম্বরে উপজেলা এবং ডিসেম্বরের মধ্যে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কালের কণ্ঠ : করোনা মহামারি মোকাবেলায় বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায়ই সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দল ও সরকার যথাযথ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করেন কি? 

মাহবুবউল আলম হানিফ : দেশে করোনা মোকাবেলায় আমরা কী করছি তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। সারা বিশ্ব, বিশ্ব নেতৃত্ব ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও সময়োচিত পদক্ষেপে বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুহার অত্যন্ত কম। পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই মহামারিতে অনেক উন্নত দেশই অর্থনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত। সেখানে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল রয়েছে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তাই বিএনপির অভিযোগ আমলে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না।



সাতদিনের সেরা